কলকাতা: বৈঠক করছিলেন বিজেপি-র এক বিধায়ক। হঠাৎ পৌঁছে গেলেন আর একজন। ভরা সভায় ছন্দপতন ঘটল। মুখোমুখি হতেই বাগযুদ্ধে জড়়ালেন তাঁরা। বিজেপি-র এক বিধায়ক বললেন, “তোলাবাজি নেই, এটা মানতে পারছি না।” অন্য বিধায়কের দাবি, “কাউকে সন্ত্রাস চালাতে দিইনি। চেষ্টা করেছি মানুষ যেন বিচার পায়।” আর সেই নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য বিজেপি-র অন্দরে। কারণ মুখোমুখি বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন বিজেপি-র যে দুই বিধায়ক, তাঁরা দু’জনই হেভিওয়েট। একজন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, অন্য জন রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। (Sharadwat Mukherjee vs Piyush Kanoria)
দমদম পার্কে বৈঠক করছিলেন বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী শারদ্বত। সেখানে হঠাৎই পৌঁছে যান পীযূষ। তাঁকে মঞ্চে আহ্বান জানান শারদ্বত। বার বার করে ডাকতে থাকেন। কিন্তু মঞ্চে উঠতে রাজি হননি পীযূষ। সেই আবহে শোরগোল শুরু হয়। পীযূষের সঙ্গে থাকা লোকজন মঞ্চের দিকে আঙুল তুলে কিছুজনে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন পীযূষ। এর পর নিজে মঞ্চ থেকে নেমে আসেন শারদ্বত। হাত ধরে পীযূষকে মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। প্রথমে রাজি না হলেও, শেষ পর্যন্ত মঞ্চে ওঠেন পীযূষ। (BJP MLAs conflicted)
এর কিছু ক্ষণ পরই মাইক হাতে গর্জে ওঠেন পীযূষ। মঞ্চে আসীন শারদ্বতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলেন, “দমদম পার্কে অনেক ঘটনা আছে। এত বছর যাদের ঢুকতে দিইনি আমরা, তাদের আবার রাজনৈতিক ভাবে ঢোকানো হচ্ছে কেন? দমদম পার্কের প্রতিটা লোক, প্রতিটা প্রোমোটার জানে, আমি জীবনে কাউকে সিন্ডিকেট চালাতে দিইনি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি এটা। আপনি যে কোনও ক্লাবে যান। কিন্তু এখান থেকে প্রোমাটারকে ফোন করে ডাকা হচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে? আমি যা বলছি, তা যদি মিথ্যে হয়, এখানে এত লোক আছে। আপনি জিজ্ঞেস করুন। কেন পাড়ায় ঢুকছে? রাত ১০.৩০-১১টার সময় ঢুকছে, মহিলাদের উপর অত্যাচার করছে। আমাদের দিকে আঙুল তুলবেন পরে যে কেন ঢোকাচ্ছে? ওই মহিলাদের উপর অত্যাচারের কী বিচার হল?”
শারদ্বতের উদ্দেশে পীযূষ আরও প্রশ্ন তোলেন, “দক্ষিণ দমদম পুরসভার লোক এখানে বসে আছে। আলোর কনট্র্যাক্ট, ১৮টি জায়গার কনট্র্যাক্ট একটা লোক পেয়েছে। কেন পেয়েছে? কার মদতে পেয়েছে? আপনি আমাকে উত্তর দিন।” এহেন পরিস্থিতিতে উত্তাপ বাড়তে শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে তোলাবাজির অভিযোগ কার্যত মেনে নিন শারদ্বত। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “তোলাবাজি, সিন্ডিকেটের অভিযোগ এসেছে। বলব না সব অভিযোগ মিথ্যে। নাম লিখতে অনিচ্ছুক বলে অভিযোগ পেয়েছি। তার মানে ভয় আউট, ভরসা ইন করতে পারিনি। বিধায়কের কাছে অভিযোগ এসেছে। কেউ মানতে নাও পারে।”
দুই বিধায়কের মধ্যে এমন বাগয়ুদ্ধ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য বিজেপি-র অন্দরেই। সংবাদমাধ্যমে পীযূষ বলেন, “দমদম পার্ক আমার আদি। আমি এখানকার বাসিন্দা। এলাকার মানুষ এখানে উপস্থিত হয়েছেন আমাকে দেখার জন্য। উনি বুঝতে পারেননি। বলতে হয়ত ভুল করেছেন। আমাকে ডেকে মঞ্চে বসালেন পরে। আমি কোনও দিন কাউকে সন্ত্রাস চালাতে দিইনি। সেটা খণ্ডিত হলে ছেড়ে কথা বলব না।”
অন্য দিকে শারদ্বত বলেন, “কোথাও বলব না, আমার এখানে সব ভাল। কী খারাপ সেটা শুনতে এসেছি। ভাল করার প্রচেষ্টা করতে এসেছি আমি। আজ শুরু হয়েছে। প্রথম অভিযোগ। আমি চার মাস পরে এসেছি। মাথা পেতে নিয়েছি, ক্ষমা চেয়েছি। দু’নম্বর অভিযোগ, ৯০ শতাংশ চিঠিতে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক। তার মানে আমরা কিন্তু ভয় আউট, ভরসা ইন করতে পারিনি। আমাদের কাজ বাকি। কাজ সম্পূর্ণ করব। আমার এইম হল, প্রত্যেক বার যখন আসব, নামহীন চিঠির সংখ্যা কমতে থাকবে। তিন নম্বর, এখানে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, প্রোমোটারদের কাছ থেকে পয়সা নেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন সেগুলো তৈরি করা। ভোটদাতাদের মান, সম্মান, ইজ্জত দিই। প্রত্যেকটা চিঠিকে সত্য বলে মেনে নেব। চিঠিগুলো মিথ্যে বলব, এমন ঔদ্ধত্য নেই আমার। বিধায়কের কাছে, বিধায়কের নামে অভিযোগ এসেছে। আমি বিশ্বাস করছি। অন্য কেউ বিশ্বাস করতে নাও পারে। আমি প্রকাশ্যে বলছি, খাচ্ছি না, খাব না, খেতে দেবও না।” কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে দুই বিধায়কের মধ্যে এমন বাক-বিতণ্ডা ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে।