কলকাতা : পুজোর মধ্যেই শোকের ছায়া। পুজো দেখতে গিয়ে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে প্রাণ গেল ১৮ জনের ! মৃতদের মধ্যে রয়েছে শিশুও। মণ্ডপে হুড়োহুড়িতে পিষ্ট হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন কালীঘাট তৃণমূল-পন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
তিনি বললেন, “চোরবাগান দুর্গোৎসব…উত্তর কলকাতায়, সেখানে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার খবর এসেছে। মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে, পুলিশ-প্রশাসন এবং সরকারকে বলব, অবিলম্বে সমস্ত রকম অগ্রাধিকার দিয়ে আগে সেখানে ত্রাণ-উদ্ধারের ব্যবস্থা করুন। মেডিক্যাল কলেজে এমার্জেন্সি বিভাগে অবিলম্বে আরও ডাক্তার এবং আনুষঙ্গিক যে পরিকাঠামো এবং স্টাফ আছে, অবিলম্বে বাড়ান। এই মুহূর্তে কতজন, কী…আমরা তারমধ্যে যাচ্ছিই না। আমরাও চাইছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব..এর উদ্ধার। মানুষ চূড়ান্ত বিপদে। আমাদের কর্মীরা যেটুকু সহযোগিতা যেভাবে দরকার, খবর রাখার চেষ্টা হচ্ছে। মণ্ডপের ভিতরে কী হয়েছে, কেন হয়েছে…আজ এই মুহূর্তে আমরা বলছি না। আগে দরকার মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করা। যারা অনেকে আত্মীয়-স্বজনকে খুঁজে পাচ্ছেন না বা বিপদে পড়েছেন, আগে তাঁদের পাশে থাকা।”
কী করে ঘটল এই দুর্ঘটনা ?
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমার সঙ্গে আমার তিন বান্ধবী ছিল। বেরোচ্ছিলাম। পুরো প্যান্ডেল লোকে ভর্তি ছিল। বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল বলে মুখে কিছু লোক দাঁড়িয়েছিলেন। সেইসময় পিছন দিয়ে খুব ধাক্কা আসে। ফলে, সামনে যারা ছিলেন তাঁরা পড়ে যান। একের পর এক একজনের পিঠে আর একজন পড়তে থাকেন। সামনে যারা ছিলেন, তাঁরা কিছুতেই উঠতে পারছিলেন না। চাপা পড়ার ফলে তাঁদের আর টেনে বের করা যাচ্ছিল না। আমার তিন বান্ধবীই তলায় চাপা পড়ে যায়। নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। কত লোক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আমি টেনে বের করতে পারছিলাম না। আমার হাত ধরে টানছিল সবাই। তারপর অন্য দিকে প্যাণ্ডেল ভেঙে স্থানীয় লোকরা বের করলেন।” আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।