কলকাতা : “যারা মারা গেছেন তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এবং একটি করে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে গ্রুপ ডি-তে।” চোরবাগান সর্বজনীনে দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, “যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার রাজ্য সরকার গ্রহণ করবে। যে হাসপাতালে তাঁরা ভর্তি হতে চান সেখানে আমরা চিকিৎসা করাব। এবং প্রত্যেক আহত ব্যক্তিকে ৫ লক্ষ করে টাকা সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করাব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি ইতিমধ্যে পিএম রিলিফ ফান্ড থেকে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। এটি একটি দুর্ঘটনা। কিন্তু, এক্ষেত্রে কর্তব্যে অবহেলার কিছু পার্ট থেকে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে আমরা দেখেছি। আর একটু সিরিয়াস হলে এটা এড়ানো যেত। বৃষ্টিও একটা কারণ। এবং, প্যান্ডেলের ভিতরে আলো কম থাকাও একটি কারণ।”
দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই মর্মান্তিক ঘটনা। চোরবাগানে সর্বজনীনের মণ্ডপে নেমে এল মৃত্যুমিছিল! পুজো দেখতে গিয়ে সেখানে প্রাণ গেল ১৯ জনের। মৃতদের মধ্যে একজন শিশু ও ১২ জন মহিলা রয়েছে বলে জানা গেছে। মণ্ডপে হুড়োহুড়িতে পিষ্ট হয়ে আহত হন ২৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রাথমিকভাবে ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “প্রাথমিকভাবে স্পটে যারা অফিসার ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে । মাইকে পুজো কমিটির পক্ষ থেকে একটা ঘোষণার জন্য এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে পেয়েছি। আমাদের এখন অগ্রাধিকার যে ২৫ জন আহত হয়েছেন, তাঁদের সুস্থ করা। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া। ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জন আহত। ২৫ জনের মধ্যে ডাক্তারদের যে রিপোর্ট আছে তাতে ২৪ জন স্থিতিশীল আছেন, একজন ক্রিটিক্যাল। উই আর ওয়ার্কিং। যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের লোককে আমরা আনার ব্যবস্থা করেছি। খুব যন্ত্রণাদায়ক ঘটনা। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং হবে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়ই হবে। অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আগামীকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ যে কর্মসূচিগুলি ছিল, আমরা সব স্থগিত রেখেছি। আমরা নিহত এবং আহত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াচ্ছি। চোরবাগানে পুজো বন্ধ করা হয়েছে। ওই ঘটনাস্থল ফরেন্সিক, এসটিএফ এবং দমকলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই জায়গাটা এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।”