কলকাতা: ২ সপ্তাহে ২ জনের মৃত্যু। প্রথমে ১৩ অক্টোবর, তারপর ২৭ অক্টোবর। ১৪ দিনের মধ্যে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে অস্বাভাবিক মৃত্যু হল ২ বিচারাধীন বন্দির। এবার যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন ভুয়ো চিকিৎসক অভিযোগে।  জেল হেফাজতে পিটিয়ে ও ইঞ্জেকশন দিয়ে খুন করার অভিযোগ করেছেন স্ত্রী! ভুয়ো ডাক্তার অভিযোগে ধৃত ব্যক্তি অসুস্থ ছিলেন, দাবি পুলিশের। পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস।

ভুয়ো চিকিৎসক অভিযোগে পুজোর আগে বাসুদেব নস্করকে গ্রেফতার করে বারুইপুর থানার পুলিশ। তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন। স্ত্রীর দাবি, সোমবার স্বামী অসুস্থ জানতে পেরে জেলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, স্বামী জেলে নেই, ভর্তি আছেন বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে। স্ত্রীর দাবি, সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, বেডে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছেন স্বামী। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে পৌঁছে জানতে পারেন, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম, বাসুদেব নস্কর। বয়স মাত্র ৪৪ বছর। বাড়ি বারুইপুরের বেতবেড়িয়া এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, জেল হেফাজতে পিটিয়ে ও ইঞ্জেকশন দিয়ে খুন করা হয়েছে বাসুদেবকে। যদিও, পুলিশের দাবি, অসুস্থ ছিলেন ওই ব্যক্তি। 

মৃত বিচারাধীন বন্দির স্ত্রী সোনালি নস্কর জানান,  ”ওরা মেরে দিয়েছে। টর্চার করেছে, টর্চারের জন্য উনি চিৎকার চেঁচামেচি করত, ওকে ইঞ্জেকশন দিয়েই মেরে দিয়েছে।” তিনি আরও জানান,”আমি হাসপাতালে এসে দেখলাম, হাত-পা বাঁধা, বেডে রয়েছে। চারিদিকে রক্ত জমে রয়েছে শরীরে। জিজ্ঞাসা করলাম, বলল, বাথরুমে পড়ে গেছে। আজকে এলাম, আসলে বলছে, উনি মারা গেছে। আমার অভিযোগ, ওঁরা মেরে দিয়েছে। ওঁকে ইঞ্জেকশন করে মারা হয়েছে। হাতে, পায়ে পিঠে সব জায়গায় রক্তের দাগ। মারধর করেছে ওঁকে। আমি সুবিচার চাইছি।”

যদিও মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, অসুস্থ থাকার কারণে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। বাড়ির লোকের কোনও অভিযোগ থাকলে তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। যদিও এই ঘটনা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের শৌচাগার থেকে বিচারাধীন বন্দি আজহারুল লস্করের দেহ উদ্ধার হয়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উঠছে প্রশ্ন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *