কলকাতা: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে, কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। গ্রেফতার হলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ, প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার সন্ধেয় CGO কমপ্লেক্সে ED-র দফতর থেকে বেরোতেই গ্রেফতার করা হয় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেনকে। তারপর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় লালবাজারে। বৃহস্পতিবার পেশ করা হবে আদালতে। এই দুর্নীতির সঙ্গে নাম জড়ায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়েরও। এই ঘটনা নিয়ে আজ নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও ইন্দ্রনীল সেনের একসঙ্গে গাওয়া একটি গান নিজেই গেয়ে শোনালেন শুভেন্দু অধিকারী।
গত ৮ জুন বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি করেছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা। যার মাথায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। তিনি বলেন, ”ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ‘মাস আর্ট’ যে কার্টেলটা চালিয়েছিল, যে ইউনেস্কো নাকি কলকাতার ৮০০-৯০০ দুর্গাপুজোর মধ্যে ২৪টা পুজোকে বেছে নিয়েছে, এই ২৪টা পুজোতে প্রথম ৪ দিন মানুষকে টিকিট কেটে এই ২৪টা প্যান্ডেলে ঢুকতে হবে। বাইরের অন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।” জয়দীপ আরও বলেন যে, ”এখন অবধি তো কয়েকশো কোটি টাকা পেয়েছে। আরও তদন্ত করলে… এটা একটা বিরাট কার্টল। একটা কার্টল তৈরি হয়েছিল। উনি…তথ্য সংস্কৃতি দফতর, এটা অনেক বড় কার্টল। মিনিস্ট্রি থেকে টাকা গেছে, আরও ব্র্যান্ডিং কোম্পানি থেকে উঠিয়েছে, পাবলিক মানি উঠিয়েছে, এখানে পাবলিক মানির ক্ষতি হয়েছে। এটা একটা বিরাট কার্টল।”
সম্প্রতি, এনিয়ে ECIR দায়ের করে তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ED। ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি এবং আত্মীয়দের ঠিকানা সহ বহু জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। ইন্দ্রনীল সেনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। বুধবারও এই মামলাতেই তলব করা হয়েছিল ইন্দ্রনীল সেনকে। দুপুর ২টো নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকেন তিনি। এর মধ্যেই সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। টানটান পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিকেল ৫টা নাগাদ ইডি দফতর থেকে বেরোতেই কলকাতা পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেনকে। এর আগে কলকাতা পুলিশ একাধিকবার ইন্দ্রনীল সেনকে তলব করলেও তিনি হাজিরা দেননি। উল্টে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিনতু তাঁর সেই আর্জি খারিজ করে দেয় আদালত। সুপ্রিম কোর্টও ইন্দ্রনীল সেনের মামলা শোনেনি। ফলে কোনও রক্ষাকবচই ছিল না তাঁর। ফলে গ্রেফতার হন প্রাক্তন তথ্য় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। এরপর এই গ্রফতারি নিয়ে মুখ খোলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আমরা জানতাম যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ইন্দ্রনীল সেন, দু’জনে একে অপরের পরিপূরক ছিল। অতএব একা ইন্দ্রনীল সেন খেয়েছে, এটা বলা অত্যন্ত ভুল হবে। তিনি যেমন আগে সিপিএমকে খাইয়ে খেতেন, সিপিএমের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পেনার ছিলেন, তারা পরবর্তীকালে সব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের সব জেলে যেতে হবে এবং ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল সেনের গানের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এবং উনারও ভাগ থেকে থাকতে পারে। একাতো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে। উনার সঙ্গে এক গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন, একসঙ্গে গান করতেন। শেষ গানটাও আমরা শুনেছি, দুজন একসঙ্গে ডুয়েট করেছে। আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়। দুজনে মিলে গান করেছেন। অতয়েব, আর্টিস্টদের খাম থেকেও হয়ত টাকা নিয়ে নিতেন। বউ-এর নাম ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি করে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন তথ্য সংস্কৃতি দফতর থেকে।”