কলকাতা : গত ২৭ অগস্ট ৯ ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে যায় কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশকর্মীরাও। একটি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই ঘটনায় একে একে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। শেক্সপিয়র থানার তরফে সমন পাঠানো হয়েছে। উল্লিখিত সকলকেই থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। যদিও এখনও তলবে কেউ সাড়া দেননি। উল্টে অভিষেকের আইনজীবীর তরফে পুলিশকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ডেরেক ও’ব্রায়নে পুলিশকে ইমেল করে হাজিরা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।
ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে তৃণমূলের একাধিক লোককে পুলিশের নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘মস্তানি মেরেছেন ২ জনে। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর করেছে। তাঁদের তলব করেছে। স্বাভাবিক কেউ যেতে পারবেন, পারবেন না, তার স্কোপ আইনের আওতায় আছে। কবে যাবেন তাঁরা ঠিক করবেন। পুলিশ কতদিন সময় দেবে, সেটা পুলিশের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। তবে বেশিদিন এইসব গুন্ডামি মস্তানি চলবে না। এরা রাজ্যসভার ভিতরে গিয়ে গুন্ডামি করে। রাস্তায় গুন্ডামি করে। এদের গুন্ডামি দেখে দেখে অতিষ্ঠ হয়েই বাংলার মানুষ বিজেপিকে এনেছে। এখন ছোট গুন্ডাগুলো, মেজ গুন্ডাগুলো সব চুপ হয়ে গেছে। এখন বড়… উপরের দিকের দু-চারটে বড় গুন্ডা এখনও গুন্ডামি করে বেড়াচ্ছে। ছোট যারা বেসে ছিল, ওদের মাথায় তুলে নাচত, তাদের গুন্ডামি যখন শেষ হয়ে গেছে, তখন বড়দের গুন্ডামিও শেষ হবে। চিন্তার কিছু নেই।’
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে ‘অশ্লীল অ্যাপ’, ভুলবশত একটা ক্লিক ! কীভাবে, কোন ফাঁদে পড়বেন আপনি ?
ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তৃণমূলের বিলবোর্ড খোলা ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মঙ্গলবার বেলা ১২টায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে তলব করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে শেক্সপিয়ার সরনি থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালিঘাট রোডের বাড়িতে যায় নোটিশ দিতে। বৃহস্পতিবারের ঘটনার জেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্য়ায় ও হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে শেক্সপিয়ার সরণি থানা ও কলকাতা পুরসভার তরফে জোড়া FIR দায়ের করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়, ডেরেক’ও ব্রায়েনদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার 121(1) ধারায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ও সরকারি কর্মীদের আঘাত করে কাজে বাধা দেওয়া, ৭৪ নম্বর ধারায় শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণের মতো জামিন অযোগ্য ধারার পাশাপাশি একাধিক ধারায় FIR করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলার ঘটনায় শুক্রবার ১৩ জন ও শনিবার ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিন ধৃতদের সঙ্গে দেখা করতে যান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়। যদিও দেখা হয়নি। এবার সেই ঘটনাতেই আগামী মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে তলব করল কলকাতা পুলিশ।