তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: এই বছরটা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherjee) কাটছে বেশ ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েই। ‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’ মুক্তি পাওয়ার পরেই, পুজোর ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra)-র প্রচার শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু পরিচালনা নয়, এই ছবির সঙ্গীত পরিচালকও তিনি। নতুন ভূমিকায় কাজের অভিজ্ঞতা, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে টোটাকে কাস্ট করা.. পর্দার পিছনের গল্প ভাগ করে নিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়।
‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’-এর সাফল্য, নতুন ছবির কাজ শুরু করতে আরও বেশি উৎসাহ দেয়? সৃজিত বলছেন, ‘অবশ্যই। ‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’ দর্শকদের মনজয় করতে না পারলে, ব্যবসা দিতে না পারলে.. মনখারাপ তো হতই। কিন্তু কেউ কেউ এই ছবিটাকে আমার সেরা ছবি বলছেন। অনেকে বলছে, আমার সেরা ৩টে বা সেরা ৫টা কাজের মধ্যে একটা ‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’। দর্শক বলছেন, এই ছবি থেকে যাবে, এই ছবি শাশ্বত। আর শুধু প্রশংসা নয়, বক্সঅফিসে একের পর এক হাউজফুল শো। খুব ভাল লাগছে এবং উদ্বুদ্ধ লাগছে।’
‘উইঙ্কেল টুইঙ্কেল’-এর পরে, ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’.. দুটোই তো রাজনৈতিক ছবি? সৃজিত বলছেন, ‘হ্যাঁ। আমার মনে হয়, কোনও বক্তব্যকে ‘ব্যান’ করে দেওয়ার পিছনেই, রাজনীতি কাজ করে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে, আমাদের রাজ্যে সদ্য যেভাবে ব্যান কালচারটা উঠে এসেছিল.. আমার আগামী ছবিতেও সেই ব্যান হওয়ার কথাই রয়েছে। একজন লেখক সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন এবং তাঁর বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এর থেকে রাজনৈতিক উচ্চারণ আর কী হতে পারে? তবে এই সিনেমাকে শুধু রাজনৈতিক ছবি বলব না, এই সিনেমার একটা ঐতিহাসিক যোগও রয়েছে।’
আপনি বলেছিলেন, টোটা রায়চৌধুরীর নাকি ফেলুদা লগ্নে জন্ম। সেই টোটাকে কেন শরৎচন্দ্র হিসেবে কল্পনা করলেন সৃজিত? পরিচালক বলছেন, ‘টোটার ফেলুদার চরিত্র নিয়ে একটা উন্মাদনা ছিল। টিনটোরেটোর যীশু যখন করছে, তখনও টোটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ফেলুদা হিসেবে ভেবেছে, করতে চেয়েছে। কিন্তু টোটা কস্মিনকালেও ভাবেনি যে, কেউ ওকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হিসেবে পর্দায় কল্পনা করতে পারে। টোটার শরৎচন্দ্র লগ্নে জন্ম এই কথা বলতে পারব না। একটা সময়ে কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না, কাকে শরৎচন্দ্র হিসেবে কাস্ট করব। কিন্তু যে মুহূর্তে টোটার মুখটা মনে ভেসে উঠেছে, ওর মুখটা স্ক্যান হয়েছে.. বুঝে গিয়েছিলাম, এই চরিত্রটা টোটা ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। ওর মধ্যে একটা অনিবার্য ব্যাপার রয়েছে।’ এখনও ছবি মুক্তি পায়নি বটে, কিন্তু শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হিসেবে টোটার লুক প্রশংসিত হয়েছে। সৃজিত বলছেন, ‘শুধু ঝলক নয়, যখন মানুষ পর্দায় টোটার হাঁটাচলা, কথা বলা দেখবেন.. তখন বুঝতে পারবেন কেন ওকেই প্রয়োজন ছিল এই চরিত্রটার জন্য।’
সৃজিতের সিনেমায় সবসময়েই বিশেষ প্রাধান্য পেয়ে এসেছে, ছবির গান। তবে এই সিনেমার ক্ষেত্রে তিনি শুধু পরিচালক নয়, সঙ্গীত পরিচালকও। নতুন দায়িত্বের অভিজ্ঞতা কেমন হল? সৃজিত বলছেন, ‘অনেকদিন ধরেই আমার চিন্তা চলছিল, গানের প্রতি আমার ভালবাসা, চর্চাকে কীভাবে নিজের ছবিতে ব্যবহার করতে পারি। এই ছবিটার কাজ শুরু করে মনে হয়েছিল, এবার এই দায়িত্বটা নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত। তবে আমার গোটা মিউজিক টিমের কাছে আমি ঋণী। ওদের ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না। গান আগেও তৈরি করেছি বটে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম হিসেবে এটাই প্রথম করলাম। তিমিরের সঙ্গে, শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গে কাজ হল, এটা বিশাল পাওয়া। ২টো রবীন্দ্রসঙ্গীত অ্যারেঞ্জ করতে পারলাম, সেটাও বড় পাওয়া।’
পুজোয় বাকি ছবিগুলির সঙ্গে প্রতিযোগীতা নিয়ে চিন্তিত? সৃজিত বলছেন, ‘ভাবছি না সেটা নিয়ে। কোনো পুজোতেই আমি এই লড়াইটা নিয়ে ভাবি না। আমার প্রযোজক নিজের চেষ্টায় যা যা শো পাবেন, টাইমিং পাবেন.. সেভাবেই ছবি দেখানো হবে। দর্শক যদি ছবিটাকে ভালবাসেন, হাউজফুল হবে।’
আরও পড়ুন: Abir Chatterjee: আগে শ্যুটিংয়ে যেতে দেরি হত, এখন ভাবি, ছোটরা কী শিখবে আমায় দেখে: আবির চট্টোপাধ্যায়