কলকাতা : নিরাপত্তা চেয়ে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন সৌগত রায়। অমিত শাহের বাড়িতে গিয়ে চিঠি দিয়ে এলেন তৃণমূল সাংসদ। কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরে বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে দমদমের তৃণমূল সাংসদ বলেছেন, ‘আমার নিজের কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল।’
কী বলছে বিজেপি ?
এ প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, “নিরাপত্তা ওঁর দরকার, কি দরকার নয় সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বুঝবে। কিন্তু, ওঁর মতো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটা অপ্রাসঙ্গিক লোকের নিরাপত্তা দিয়ে শুধু শুধু সরকারি খরচা আর সরকারি সাধনের অপচয় করার আমার মনে হয় না কোনও দরকার আছে। যে ক্যামেরার সামনে হাত পেতে টাকা নিয়েছেন তাঁকে তো লোকে চোর বলবেই। তাঁকে লোকে ঘুষখোর বলবে। সত্যিটা তো আর বন্ধ করে রাখতে পারবেন না লোকের মুখ থেকে। সুতরাং এখনও সময় আছে, আপনার বয়স হয়েছে, এই সমস্ত দুর্নীতির থেকে বেরিয়ে আসুন, মানুষের পাশে দাঁড়ান, মানুষের কাজ করুন…যদিও মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু, এই সমস্ত ড্রামা করে কোনও লাভ হবে না।”
প্রেক্ষাপট…
মুহূর্মুহু গাড়ির বনেটে চাপড়, সেইসঙ্গে স্লোগান। দিনকয়েক আগে এভাবেই হেনস্থা করা হয়, চার বারের সাংসদ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সৌগত রায়কে।
এয়ারপোর্ট অথরিটির ডাকে এয়ারপোর্ট অ্য়াডভাইসরি কমিটির বৈঠক ছিল। সেই কমিটিরই চেয়ারম্যান দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সেই বৈঠকে ঢোকা ও বেরোনোর সময় দু’দফায় ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় কালীঘাট-তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান সাংসদকে।
দুপুরে যখন বৈঠকে যোগ দিতে আসেন সৌগত রায়, তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। ছবিতে দেখা যায় চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন সৌগত রায়। বারবার দরজা খুলতে বলেন বিক্ষোভকারীরা। ক্রমাগত চাপড় মারা হয় গাড়িতে। এরপর সেখান থেকে সৌগত রায় বেরোনোর সময়ও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফের গাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। সৌগত রায়ের চালকের দাবি, তাঁকে মারধর করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে বিক্ষোভ-হেনস্থার ঘটনায় এর আগে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছিলেন কালীঘাট-তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়। দমদমের দুই বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ তোলেন তিনি। বিষয়টি প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠানোর আর্জি জানান সৌগত রায়। পাল্টা সাংসদের ‘দুর্নীতির খতিয়ান’ তুলে ধরার হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি বিধায়ক।