আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। প্রায় ২ বছর জেলে থাকার পর তাঁর জামিন মঞজুর করল বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতির প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ।বেআইনিভাবে বিপজ্জনক বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য বিক্রি , জিম এবং নিজের চেম্বারের সৌন্দর্যায়নের জন্য কোভিড ফান্ডের অপব্যবহার, টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে চিকিৎসক-অফিসারদের বদলি, অযোগ্যদের কাজের বরাত, সর্বোপরি কোটি কোটি সরকারি অর্থের অপচয়, এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ২ বছর আগে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় CBI-এর হাতে গ্রেফতার হন আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজের প্রাক্তন অধ্য়ক্ষ সন্দীপ ঘোষ। অভয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
সন্দীপ ঘোষ জামিন পেয়ে যাওয়া প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে চিকিৎসক মহলের একাংশোর মধ্যে। আর এই খবর পেয়ে অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ বলছেন, ‘ লড়াই আমাদের চলতে থাকবে। যদি এই সরকারের সঙ্গে লড়তে হয় লড়তে হবে। বিচারের জন্য প্রয়োজন পড়লে ফের আন্দোলন হবে। আমরা পথেই আছি। দরকারে আবারও আন্দোলন হবে। দরকারে নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধেও ‘ দাবি অভয়ার বাবার।
অভয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরপরই বিতর্কে জড়ান সন্দীপ ঘোষ। নৃশংস সেই ঘটনায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে প্রথমে তিনি গ্রেফতার হন। সেই মামলায় জামিন পেলেও পরে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয় সন্দীপ ঘোষকে। এই মামলায় ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।
ধীরগতিতে চলা বিচারপ্রক্রিয়া এবং জেলে থাকার মেয়াদের ভিত্তিতে তাঁকে জামিন দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এর আগে এই একই মামলায় সন্দীপ ঘোষের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতায় CBI-এর বিশেষ আদালত এবং হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন সন্দীপ ঘোষ। তারপর অবশেষে মিলল জামিন।
এভাবে সন্দীপ ঘোষ ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় কার্যত ক্ষুব্ধ চিকিৎসকদের একাংশ। চিকিৎসক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিবিআইয়ের গাছাড়া মনোভাব, এই জামিনেই স্পষ্ট। আমাদের দাবি অতি দ্রুত ফাস্ট ট্রায়াল কোর্টে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা হোক। ভয়েস অফ অভয়ার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্রের নিশানাতাতে সিবিআই । বললেন, সিবিআইয়ের চূড়ান্ত ব্যর্থতা। কীভাবে একজন অপরাধী ছাড়া পান?
এখন অভয়ার খুন ধর্ষণের ঘটনার বিচারপ্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয় সেদিকেও নজর সকলের।