কলকাতা: চোরবাগানের বিপর্যয়ে, বারে বারে উঠে এসেছে একটা ঘোষণার কথা। সেই সময়ে যাঁরা মণ্ডপে ভিতরে ছিলেন বা স্থানীয়রা বারে বারে বলেছেন, মণ্ডপের ভিতর থেকে কিছু একটা ঘোষণা করা হয়েছিল। আর তারপরেই নাকি শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি। ভেঙে পড়ে মণ্ডপের একাংশ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, একটা ঘোষণাই বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল মণ্ডপের মধ্যে থাকা হাজার হাজার মানুষকে। প্রত্যেকেই বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন মণ্ডপ থেকে। আর তখনই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। কিন্তু ঠিক কী ঘোষণা করা হয়েছিল পুজো কমিটির তরফ থেকে? কোন ঘোষণার ফলে মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ির মতো পরিস্থিতি তৈরি হল?

সরু এক্সিট গেট, মাইকে ঘোষণা হওয়ার পরেই বেরনোর জন্য শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি! তাতেই বিপত্তি

প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে ওই সময়ে মণ্ডপে যাঁরা যাঁরা ছিলেন, তাঁরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জন্য চোরবাগানের মণ্ডপ থেকে বেরোতে পারছিলেন না দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে আবার এন্ট্রি গেট দিয়ে হুড়মুড়িয়ে প্যান্ডেলে ঢুকে পড়েন আরও দর্শনার্থী। এক্সিট গেটের রাস্তা সামনের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছিল, এর ফলে একটা সময়ে খুব কম মানুষই গেট দিয়ে বেরোতে পারছিলেন। বাইরে বৃষ্টি পড়ায় এক্সিট গেটের মুখে অপেক্ষা করছিলেন অনেকেই। আর ঠিক সেই সময়ে মাইকে হঠাৎ পুজো উদ্যোক্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘোষণায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে।

মাইকে এমন কী ঘোষণা হয়েছিল, যার পরেই মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক?

এই ঘটনার আগে, প্যান্ডেলের মধ্যে ঘোষণা করা হয়, ‘প্যান্ডেলের অবস্থা খুব খারাপ, আপনারা বেরিয়ে যান, এখানে দাঁড়াবেন না। প্যান্ডেল যখন তখন পড়ে যেতে পারে, আপনারা বেরিয়ে যান। প্যান্ডেল ভেঙে গেলে পদপিষ্ট হয়ে যাবেন। প্লিজ এখানে দাঁড়াবেন না, বেরিয়ে যান.. বেরিয়ে যান..’ মাইকে এই ঘোষণা শুনে মণ্ডপ থেকে বেরনোর জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায় দর্শকদের মধ্যেই। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বেরনোর গেটে পৌঁছতেই। মণ্ডপের ভিতর এবং বেরনোর রাস্তা যথেষ্ট প্রশস্ত ছিল না। এক্সিট গেটের মুখ সরু থাকায় সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে যান অনেকে। ঘটনার সময়ে বন্ধ ছিল মণ্ডপের এমারজেন্সি এক্সিট গেটও। এর ফলে দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। প্রাণ হারানোর আশঙ্কাকেই কেড়ে নিল ১৯টা তাজা প্রাণ।

 

আরও পড়ুন: Chorbagan Stampede: ‘আমাদের জীবন থেকে দুর্গাপুজো চলে গেল’, কান্নায় ভেঙে পড়লেন চোরবাগানে নিহত ছাত্রীর বাবা-মা

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *