কলকাতা: এই মামলায় জেলে পর্যন্ত গিয়েছেন বলিউডের এই তারকা। বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন, রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। তবে প্রতিশ্রুতি দিয়েও, এখনও চেক বাউন্স মামলায় ২ কোটি টাকা জমা করেননি রাজপাল যাদব। আর সেই কারণেই এবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Sourt) ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন, রাজপাল। আদালতের নির্দেশ না মানায়, গতকাল অর্থাৎ ৫ অক্টোবর এই মামলার শুনানির সময়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের এই প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য, ‘এই ঔদ্ধত্যকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।’
চেক বাউন্স মামলায় কারাবাস রাজপাল যাদবের
২০২৪ সালের মে মাসে, একটি দায়রা আদালত চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করে ও ৬ মাসের কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল। পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর সাজা স্থগিত করে দেয়। কারণ রাজপাল যাদবের আইনজীবী আদালতকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, উভয় পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিবাদ মিটিয়ে নেবে। মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য দিল্লি হাইকোর্টের মেডিয়েশন সেন্টারেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আদালতের মতে, বহুবার সময় দেওয়া এবং আশ্বাস দেওয়ার পরেও অভিনেতা নির্ধারিত অঙ্কের টাকা শোধ করেননি। হাইকোর্ট প্রথমে রাজপাল যাদবকে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা কিস্তিতে জমা করার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু রাজপাল যাদব সেই টাকাও জমা দেননি। সেজন্যই ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ আদালত তাঁকে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। ৫ ফেব্রুয়ারি রাজপাল যাদব আত্মসমর্পণ করেন এবং তারপরে তাঁকে কিছুটা সময় জেলে থাকতে হয়েছিল।। পরে যখন তিনি অভিযোগকারীর কাছে ১.৫ কোটি টাকা জমা দেন। কিন্তু এরপরেও, রাজপাল যাদবের আরও অনেকটা পরিমাণ টাকা দেওয়া বাকি থেকে গিয়েছে।
রাজপাল যাদবের মামলায় কী বলল আদালত?
চেক বাউন্স সংক্রান্ত এই মামলা চলছে দীর্ঘদিনই। এই মামলায় রাজপালকে ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ বারের মতো টাকা মেটানোর সুযোগ দিয়েছিল আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন, মোট ৫ কোটি টাকার মধ্যে অন্তত ২ কোটি টাকা আদালতের নির্দিষ্ট দফতরে জমা দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশও পালন করেননি অভিনেতা। সোমবার মামলাটি শুনানির সময়ে তাঁর আইনজীবীর বক্তব্যেও ক্ষুব্ধ হয় আদালত। রাজপাল যাদবের আইনজীবী এদিন বলেন, ‘অভিযোগকারীরা তো গরীব নন।’ এর উত্তরে বিচারপতি বলেন, ‘ওঁরা হয়তো আপনার চেয়ে বেশি ধনী। কিন্তু আপনি যতটা টাকা তাঁদের কাছ থেকে নিয়েছেন, সেই অর্থের নিরিখে তাঁরা গরিব। এই ঔদ্ধত্য দেখানোর উপযুক্ত জায়গা এটা নয়। কখন মুখ খুলতে হয়, সেটাও আপনার জানা উচিত। আপনার আসল জায়গা জেলই।’