বালি : জলপাইগুড়ি, চন্দ্রকোণা রোডের পর এবার বালিতে। সিপিএমের একাধিক দলীয় অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বালি-বেলুড়ে একাধিক সিপিএম পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার বালির পঞ্চাননতলায় দীপ্সিতা ধরের সভা ছিল। তার পরই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গতকাল রাত ১০টা নাগাদ মোটরবাইকে করে আসে ৬০-৭০ জন দুষ্কৃতী। এই দুষ্কৃতীরাই বালি পঞ্চাননতলা, দেওয়ানগাজি, বেলুড় স্টেশন রোডে সিপিএমের কার্যালয়ে হামলা চালায়।
সিপিএমের তরফে বলা হয়েছে, পাঁচটি পার্টি অফিস আক্রান্ত হয়েছে। দেওয়ানগাজি পার্টি অফিস, বেলুড় স্টেশন রোডের স্বরস্বতী ব্যায়াম সমিতির ওখানে, পাঠকপাড়া, পঞ্চাননতলা রোডের ওখানে। চারখানা পার্টি অফিস ভাঙচুর হয়েছে একদম। আর একটা পার্টি অফিস পঞ্চাননতলা রোডে, সেটাতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। পাঁচখানা পার্টি অফিস আক্রান্ত হয়েছে আধ ঘণ্টা, ৪৫ মিনিটের মধ্যে। বিজেপি সংগঠিতভাবে করেছে। গোটা ২০ বাইকে করে…সব বিজেপির লোকজন…তারা একাজ করেছে। এ তো হঠাৎ করে কিছু নয়। কমিউনিস্ট পার্টির উপর ওদের আক্রমণ তো স্বাভাবিকভাবেই হচ্ছে। গোটা পশ্চিমবঙ্গেই হচ্ছে। ৪ তারিখের পর থেকেই দেখছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উপর আক্রমণ, গরিব মানুষের উপর আক্রমণ, হকার-বিশ্ববিদ্যালয়-টোটোওয়ালা কেউ বাদ যাচ্ছে না।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই হবে, কোনও ঝামেলা নিশ্চয়ই কেউ করেছে। এতে বিজেপির কেউ আছে বলে আমার কাছে ফোন কিছু আসেনি। সিপিএমের সঙ্গে কার কী সম্পর্ক আছে আমি বলতে পারব না। ওদের আমরা ধরি না। ওদের কোনওরকম সংগঠন আছে বলে ধরি না।”
দিনকয়েক আগে জলপাইগুড়িতে সিপিএমের পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। পার্টি অফিসের ভিতরে পেট্রোল ভর্তি বোতল ছুড়ে মারার অভিযোগ তোলে সিপিএম। আইনশৃঙ্খলা হাতে নিলে তার বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা নেওয়া হবে বলে বক্তব্য ছিল পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের। এই ঘটনায় সিপিএম এবং বিজেপি দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
সিপিএমের পার্টি অফিসের গেটে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছিল। জ্বলন্ত পতাকার টুকরো ছুড়ে দেওয়া হয় ভিতরে। নীচ থেকে দোতলায় ছোড়া হয় বোতল। আর সবটা হয় পার্টি অফিসের ভিতরে সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা থাকাকালীনই। জলপাইগুড়ি সদরে ডিবিসি রোডে রয়েছে সিপিএম-এর পার্টি অফিস সুবোধ ভবন। সিপিএম পার্টি অফিসে এভাবেই চলে তাণ্ডব।