দীপক ঘোষ, কলকাতা : বিগত কয়েকদিন একাধিকবার রাস্তায় নেমে নানা ধরনের বার্তা দিতে দেখা গিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। রাস্তাঘাটে দেখা গিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কেও। এবার এই দুই মন্ত্রীকে বিশেষ বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আজ নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিশেষ বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রীদের উদ্দেশে। যে বিষয়ের উপর এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়েছেন সেটা হল, মন্ত্রীদের তিনি বলেছেন যে, তাঁরা যেন নিজ নিজ দফতরের কাজে বেশি করে মনোনিবেশ করেন। প্রত্যেক মন্ত্রীকেই বলা হয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট দফতরের ক্ষেত্রে কী কী প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেদিকে যেন মন্ত্রীরা নজর দেন। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছেন, মন্ত্রীদের নির্দিষ্ট দফতরের সরকারি কাজকর্মের বাইরে, প্রকাশ্যে বেশি কথা না বলাই ভাল। এই প্রসঙ্গেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দিয়ে বলেন, ‘আপনারা রাস্তাঘাটে সময় নষ্ট না করে বরং দফতরে বসুন। দফতরের কাজে বেশি মনযোগ দিন।’
ফের ঘুষ নিতে গিয়ে পাকড়াও সরকারি অফিসার, কত টাকা নিচ্ছিলেন ধৃত আধিকারিক ? কেনই বা নিচ্ছিলেন ?
বিগত কয়েকদিনে রাজ্যের কিছু মন্ত্রীকে রাস্তায় নেমে নানা ধরনের কথা বলতে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের বার্তা দিতেও দেখা গিয়েছে। এর কারণে সমাজমাধ্যমে যেমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনই দলের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে দল আলোচনাও করেছে। গতকাল ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের উপস্থিতিতে সাংগঠনিক বৈঠকেও এইসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু মন্ত্রী এমন কিছু কাজ করছেন যা গ্রহণযোগ্য নয়। এইসব বিষয়ে দল কিংবা সংগঠন বলবে, কিছু বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলবেন। কিন্তু কিছু বিষয়ের উপর এমন কিছু কথাবার্তা বলা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে বেশ কিছু জিনিস ঘটেছে। কিছু বিষয় বেশ অস্বস্তিকর। মুখ্যমন্ত্রীকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
আর এবার তাই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই মন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা যে, তাঁরা যেন নিজ নিজ দফতরের কাজে বেশি করে মন দেন। মুখ্যমন্ত্রী এও বলেছেন যে, ‘রাস্তাঘাটে নয়, বেশি সময় দফতরে দিতে হবে। অনেক দফতরই কর্মী সংকটে ভুগছে। সেখানে নিয়োগ করতে হবে। কর্মী সংখ্যা বাড়াতে হবে। দফতরের কাজ ভালভাবে করতে হবে।’