মুম্বই: ভোটচুরির অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জোরাল হচ্ছে। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে এবার বিপাকে অভিনেতা ইমরান খান, যিনি আমির খানের ভাগ্নেও। ইমরান এবং তাঁর বান্ধবী লেখা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে ইতিমধ্যেই। এবার তাঁকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি তুললেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ কীর্তি সোমাইয়া। ইমরান OCI কার্ড হোল্ডার। তাই তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রাক্তন স্ত্রী অবন্তিকা মালিকের সঙ্গে ইমরানের এক সন্তানও রয়েছে। তাঁরা ভারতেই থাকেন। (Imran Khan Deportation Demands)

OCI কার্ড কী?

ইমরানের জন্ম আমেরিকার ম্যাডিসন, উইসকনসিনে। তিনি Overseas Citizen of India বা OCI কার্ড হোল্ডার। ২০০৫ সালে OCI কার্ড চালু হয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্যই চালু হয় ওই কার্ড। OCI কার্ড পাওয়ার অর্থ ভারতের নাগরিকত্ব পেয়ে যাওয়া নয়। বরং OCI কার্ড থাকলে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়, যার মধ্যে অন্যতম হল, জীবনভর, বার বার ভারতে ঢোকার ভিসা। পাশাপাশি, শিক্ষা, সম্পত্তি এবং কাজকর্মের সুবিধাও তার অন্তর্ভুক্ত। তবে ভারতে ভোটদান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অন্য নাগরিকদের মতো রাজনৈতিক অধিকার নেই তাঁদের। (Bollywood News)’

কী অভিযোগ?

সেই OCI কার্ডের অধিকারী ইমরান। শনিবার মুম্বইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে পথে নেমেছিলেন তিনি। আন্দোলন থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে ছেড়েও দেওয়া হয়। তবে একদিন আগে মুম্বই পুলিশ ইমরানের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অনুচ্ছেদ ২২৩ (নির্দেশ অমান্য), ১২৬ (২) (অন্যায় ভাবে বাধাদান), ১৮৯ (২) (বেআইনি জমায়েত), ১৮৯ (৩) এবং ১৮৯ (৫)-এ মামলা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয়েছে বলে খবর। এর পরই ইমরানকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি করেন বিজেপি নেতা কীর্তি। 

আরও পড়ুন: জলের জন্য হাহাকার মহারাষ্ট্রে, ওয়াটার-কার্ফু জারি হল, জরিমানা, FIR দায়েরের নিদান

OCI-বিধি কী বলছে?

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিক্ষোভ বা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য কি OCI কার্ড হোল্ডারদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া যেতে পারে? OCI সংক্রান্ত নিয়মকানুনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে যোগ দেওয়া নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা নেই। উল্লেখ নেই আগে থেকে অনুমতি নেওয়ারও। তবে তার অর্থ এই নয় যে তাঁদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ অনুমোদিত। নাগরিকত্ব আইনের ৭-বি ধারা অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ নির্দিষ্ট কিছু অধিকার OCI কার্ডধারীদের উপর প্রযোজ্য নয়। তবে ভোটদান এবং নির্বাচিত পদে আসীন হওয়ায় যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার দ্বারা আন্দোলন বা বিক্ষোভে শামিল হওয়া বেআইনি এমনও নয়। 

সংবিধানে বাক স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ জমায়েতের সুনিশ্চিতকারী যে অনুচ্ছেদ ১৯ রয়েছে, তাতেও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। ওই অধিকারগুলি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ। বিদেশি নাগরিক হিসেবে OCI কার্ডধারী ব্যক্তি সাধারণ নাগরিকদের মতো সেই অধিকারগুলি দাবি করতে পারেন না।

আরও পড়ুন: মানুষের অস্তিত্বই থাকবে না পৃথিবীতে? চলতি শতাব্দীর শেষেই? বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে AI, বলছে ল্যান্সেটের রিপোর্ট

অন্য দিকে, OCI কার্ডধারীরা বিদেশি নাগরিক হিসেবেই গণ্য হন। বিদেশি এবং অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত আইনের আওতায় পড়েন তাঁরা। নাগরিকত্ব আইনের ৭-ডি ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু কারণেই OCI-এর নথিভুক্তি বাতিল হতে পারে, যার সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে। কোনও অভিযোগ বা ভিসা সংক্রান্ত নিয়মকানুন লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা পড়লেই অপরাধ প্রমাণ হয় না। ফলে তার দরুণ দেশ থেকে বহিষ্কার করার যুক্তিও খাটে না সাধারণত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *