কলকাতা : ‘একটা বড় সংখ্যক বলেছে যে, ইনি আপনাদের ঘোষিত নিয়মে পাওয়ার যোগ্য নন, কিন্তু ইনি পাচ্ছেন।’ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে বড় বিবৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা একটা পোর্টালও চালু করেছি অন্নপূর্ণা নিয়ে। এখন অবধি সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগ এসেছে তাতে। আমি ধন্যবাদ জানাব… ইনক্লুসনের আবেদন আছে , আবার এক্সক্লুসনের জন্যও লোক অভিযোগ করেছে। ও পাওয়ার যোগ্য নয় কেন পেয়েছে ! ৩১ অগাস্টের পর স্টাডি করে বলে দেব। আমরা যে অভিযোগ পোর্টালটা চালু করেছিলাম ২১ তারিখ থেকে তাতে সাড়ে ৪ লক্ষ মা-বোন-দিদি অভিযোগ করেছেন। সবাই ইনক্লুসনের জন্য করেননি। তারমধ্যে একটা বড় সংখ্যক…আমাদের দফতর বলেছে…যে ইনি আপনাদের ঘোষিত নিয়মে পাওয়ার যোগ্য নন, কিন্তু ইনি পাচ্ছেন।”

প্রেক্ষাপট…

অন্নপূর্ণা ভাতা নিয়ে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। পাল্টা কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছেন, “কেন মেয়েরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাচ্ছে না ? দেখে দেখে দিচ্ছেন। চেখে চেখে দিচ্ছেন। বর্ণ দেখে দিচ্ছেন।”

পাল্টা জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “ধর্ম-বর্ণ, বর্ণ নয় ধর্ম, মানে কী ইঙ্গিত করেছেন ! এখনও অবধি ট্রান্সফার হয়ে গেছে টাকা ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৭২ জনের অ্য়াকাউন্টে। এর মধ্য়ে মুসলিম সুবিধাভোগী আছে ১৯ লক্ষ ২০ হাজার।” 

তৃণমূলের শাসনকালের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিজেপি আমলে রাজ্য সরকারি প্রকল্পের নাম বদলে হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। তৃণমূল আমলের বরাদ্দ দেড় হাজার, বিজেপির হাতে একলাফে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু অনেকেই মাসিক তিন হাজার টাকা পাচ্ছেন না, এই নিয়ে কোনও কোনও জায়গায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ! এই নিয়েই এবার বাগযুদ্ধে জড়ালেন প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্য়মন্ত্রী। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ১ মাস দেবেন, ৩ মাস দেবেন না। পুজো পর্যন্ত বড়জোর দেবেন। বর্ণ দেখে দিচ্ছেন। ধর্মও দেখছেন না। আপনারা হিন্দু ধর্ম ভালবাসেন না। আপনাদের হচ্ছে হিন্দুত্ব। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফিরিয়ে দিন। আমরা আগামীদিন নিশ্চয়ই কোনও সিস্টেম করব। সেই সিস্টেমের মধ্য়ে দিয়ে আমরা এগুলো জোগাড় করব। আপনাদের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে আমি আছি। ছিলাম এবং থাকব।” 

পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “উনি তো আজকেও ধর্ম-বর্ণ, বর্ণ নয় ধর্ম, মানে কী ইঙ্গিত করেছেন, এর আগে বলেছিলেন না, আমি আছি বলে আছো, নইলে একটা কমিউনিটি ১ সেকেন্ডে শেষ করে দেবে। ইঙ্গিত তো পরিষ্কার। যারা যোগ্য়, তারা হিন্দু, কি মুসলিম, কি বিজেপি, কি তৃণমূল, পেয়েছেন। উনি পারবেন নাকি দেখাতে, এসব করে ? আমি শুধু নন্দীগ্রামের একটা গ্রামের কথা বলব, ৮৬% হিন্দু বাস করে। ২ জন হিন্দুকে দিয়েছিলেন আবাসের বাড়ি।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *