কলকাতা: দল ক্ষমতায় এসেছে মাত্র কয়েক মাস। তাতেই বিজেপি-র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। সেই নিয়ে এবার দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে খোলা চিঠি রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। দলের নীতির বাইরে গিয়ে কাজ করলে, দল দায় দেবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দুর্নীতি বা অপকর্মের প্রমাণ মিললে সাংগঠনিক এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দিলেন। (Samik Bhattacharya)

দলের গ্রুপে খোলা চিঠি দিয়েছেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, ‘বিভিন্ন স্তরে কিছু কর্মীর অনভিপ্রেত কার্যকলাপ নজরে পড়েছে। দলীয় নীতির বাইরে গিয়ে কাজ করলে, দল দায় নেবে না। দুর্নীতি বা অপকর্মের প্রমাণ মিললে সাংগঠনিক এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুণ্ণ না হয়। সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করুন’। রাজ্য, জেলা, অঞ্চল, মণ্ডল, বুথ স্তরে বিজেপি কর্মকর্তা এবং কর্মীদের উদ্দেশে শমীক খোলা চিঠিটি লিখেছেন। (West Bengal BJP)

আরও পড়ুন: Modi-Trump Press Conference: প্রেস কনফারেন্স করতে চাননি মোদি? দাবি আমেরিকার, ভারত বলল…

কাটমানি-সিন্ডিকেট-তোলাবাজি নিয়ে লাগাতার বার্তা দিয়ে আসছেন শমীক। রবিবার সেই নিয়ে নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরেও সুর চড়ান তিনি। জানান, অনেক বিধায়ক সম্পর্কেই অভিযোগ আসছে যে, তাঁরা অন্য়ায় কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব বরদাস্ত করা হবে না। দরকার হলে পার্টি থেকে বের করে দেওয়া হবে। সেই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরম ওঠে। তৃণমূলের কুণাল ঘোষ বলেন, “ওঁর কথা কেউ শুনছে না। এমন পরিস্থিতি যে বিধায়কদের বের করে দিতে হবে বলতে হচ্ছে। বিশৃঙ্খল দল একটা।” আর তার পরই খোলা চিঠি লিখলেন শমীক।

এখনও চার মাস হয়নি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু তার মধ্যেই তোলাবাজি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত তারা। মালদার হরিশচন্দ্রপুরে দলের একাংশের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুললেন বিজেপি-রই অন্য গোষ্ঠী। রাস্তা তৈরিতে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে সেখানে বিজেপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তর্কাতর্কি, ধাক্কাধাক্কি চোখে পড়ে। শুধু জেলাতেই নয়, কলকাতার এন্টালি এবং আনন্দপুর থেকেও বিজেপি-র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবি উঠে এসেছে। আনন্দপুরে দলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মাথাও ফাটে। বারুইপুরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণও গিয়েছে একজনের।

আরও পড়ুন: Hindu Temple in Iran: ইরানে আজও মাথা উঁচুু করে দাঁড়িয়ে বিষ্ণু মন্দির, তৈরি হয়েছিল হিন্দুদের জন্য, একেবারে হরমুজ়ের গা ঘেঁষে

এমনকি শমীকের নাম করে তোলাবাজির ঘটনাও সামনে এসেছে। একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থা থেকে তাঁর নাম করে তোলাবাজির ঘটনা উঠে আসে। সেই নিয়ে বিধাননগর সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের হয়। গ্রেফতার করা হয় একজনকে। শমীক জানান, তাঁর নাম করে ফোন করা হচ্ছে লোকজনকে। নাম-পদবী দিয়ে চিঠি গিয়েছে বিভিন্ন সংস্থার কাছে। কোনও ভাবেই তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না হলে জানান তিনি। তার পরও অভিযোগে বিরাম নেই। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *