সন্দীপ সরকার, কলকাতা : রক্ত, প্লাজমা পাচারের তদন্তে, বেসরকারি ব্লাড ব্য়াঙ্ক, লাইফ কেয়ারের এন্টালির শাখায়, ফের হানা দিল স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য়ভবন সূত্রে খবর, কিছু নথি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একদিনে ৩৫টা রক্তদান শিবির থেকে প্রায় ১৬০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেছে এই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ রক্ত পৃথকীকরণ করতে যে পরিকাঠামো দরকার, তা তাদের নেই বলে দাবি স্বাস্থ্য় ভবনের।
রক্তেও হদিশ মিলেছে দুর্নীতির। স্বাস্থ্য দফতরকে অন্ধকারে রেখে, ভিনরাজ্য়ে রক্ত ও প্লাজমা বিক্রি করে দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। রক্ত, প্লাজমা পাচারের, তদন্তে, বেসরকারি ব্লাড ব্য়াঙ্ক, লাইফ কেয়ারের এন্টালির শাখায়, ফের হানা দিল স্বাস্থ্য দফতর। ৬ ঘণ্টা ধরে চলে অভিযান। এর আগে, লাইফ কেয়ার-এর বিরুদ্ধে বেনিয়াপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে রাজ্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল বা SBTC. রক্তদান শিবির থেকে কোনও রকম রক্ত সংগ্রহের ওপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। জুলাই মাসে, লাইফ কেয়ার-এর CIT রোডের ব্লাড ব্যাঙ্কে তল্লাশি চালায় SBTC. স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, সেই তল্লাশিতে বেশ কিছু বেনিয়ম ধরা পড়ে।
‘মিথ্যে কথা বলবেন না… আগে আমডাঙায় যান’, কাশেম সিদ্দিকির অভিযোগের পাল্টা কী বললেন ঋতব্রত ?
তল্লাশি অভিযানের পর, গত কয়েক মাসে কত ইউনিট রক্ত ও প্লাজমা ভিনরাজ্যে বিক্রি করা হয়েছে, সেই সম্পর্কে নথি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু একাধিকবার স্বাস্থ্য ভবনের তরফে নথি চাওয়া হলেও তারা কোনও নথি জমা দেয়নি। এরই মধ্য়ে, গত ৬ অগাস্ট, লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্কের এন্টালি ও নিউটাউন… ২ টি শাখাতেই তল্লাশি চালায় স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল বা SBTC. তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ চেয়ে, কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্য়াঙ্ক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, গত বুধবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্য় সরকার তদন্ত করতে পারবে। এরপরই, সোমবার, অর্থ ও আইন সেলের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে, লাইফ কেয়ারের এন্টালির শাখায় হানা দেয় স্বাস্থ্য় দফতরের আধিকারিকরা।
তদন্তকারীদের দাবি, ব্লাড ব্যাংকের কাছে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছিল। চলতি বছরে কত টাকার রক্ত এবং প্লাজমা বিক্রি? ব্লাড ব্যাংকের কাছে সেই নথি চাওয়া হয়। লাইফ কেয়ার এর তরফে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা লিখিত আবেদন করলে তবেই কাগজ দেখাবেন তারা। আর্থিক নথিপত্র ব্লাড ব্যাংকে রাখা নেই। মঙ্গলবার, ব্লাড ব্য়াঙ্ক কর্তৃপক্ষকে একাধিক নথি-সহ স্বাস্থ্য ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য়ভবন সূত্রে খবর, কিছু নথি পরীক্ষা করে তদন্তকারী আধিকারিকরা দেখতে পান, একদিনে ৩৫টা রক্তদান শিবির থেকে প্রায় ১৬০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেছে লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্যাঙ্ক। এই বিপুল পরিমাণ রক্ত পৃথকীকরণ করতে যে পরিকাঠামো দরকার, তা তাদের ব্লাড ব্যাঙ্কে নেই বলে দাবি স্বাস্থ্য় ভবনের। তাহলে বিপুল পরিমাণ রক্ত গেল কোথায়? তার উত্তর মেলেনি বলে সূত্রের দাবি। সূত্রের খবর, নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ন্যাশনাল মেডিক্য়াল কলেজের ডাক্তারি ছাত্রদের বিভিন্ন রক্তদান শিবিরে ডিউটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা নিয়ম বিরুদ্ধ। যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার তলব করেছে স্বাস্থ্য ভবন।
পাশাপাশি, তদন্তকারী সূত্রে দাবি, নথিপত্র পরীক্ষা করে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের আধিকারিকরা দেখতে পান, ২০২২ সালে লাইসেন্স পাওয়ার সময়, ব্লাড ব্যাঙ্কের তরফে যা যা পরিকাঠামো দেখানো হয়েছিল, তার অনেক কিছুই এই চার বছরে পাল্টে ফেলা হয়েছে। সেটাও নিয়ম বিরুদ্ধে বলে দাবি স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। স্বাস্থ্য় ভবন সূত্রে খবর, শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে, এখনও লাইফ কেয়ার ব্লাড ব্য়াঙ্কের ওপর, নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। কেবলমাত্র কেউ নিজে এসে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তদান করতে চাইলে, তার রক্ত নেওয়া যাবে।