কলকাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরে সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে বিষাক্ত গ্যাসের শিকার হলেন ৪ জন। মৃতদের মধ্যে ৩ জন একই পরিবারের সদস্য। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেপটিক ট্যাঙ্কে কাজ করতে গিয়ে প্রথমে ভিতরে পড়ে যান বদির মল্লিক নামে এক ব্যক্তি। তাঁকে বাঁচাতে একে একে সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে পড়েন তাঁর বোন সরজিনা বিবি, ছেলে শেখ রবিউল ও আত্মীয় শেখ সাহেব। পরে সেখান থেকে উদ্ধার হয় ওই ৪ জনের মৃতদেহ। পাশাপাশি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি শেখ আবুকালাম নামে আরও ১ ব্যক্তি। ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে মোহনপুর থানা।
কিছুদিন আগে পশ্চিম বর্ধমানে ৭০ বছরের পুরনো একটি জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ২ জন কর্মী। অন্ডাল থানার অন্তর্গত ইসিএলের বাকলা এরিয়ার শ্যামসুন্দরপুর (চনচনি) কোলিয়ারিতে ভোরবেলা ঘটে গিয়েছিল বড়সড় দুর্ঘটনা। প্রায় ৭০ বছরের পুরনো কংক্রিটের বিশাল জলের ট্য়াঙ্কটি আচমকাই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে সকাল ৬.৩০ নাগাদ। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হন ইসিএলের দুই কর্মী সঙ্গীতা দেবী (৫০) ও প্রভাবতী ভূঁইয়া (৫০)। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিম্নচাপের জেরে খনি এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। যার ফলেই হঠাৎ জলের ট্যাঙ্কের ধসে পড়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।স্থানীয়দের দাবি, এই ট্য়াঙ্ক থেকেই প্রায় হাজারখানেক মানুষের পানীয় জলের সরবরাহ হয়। ফলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি এখন দেখা দিয়েছে তীব্র জলসংকটের আশঙ্কাও। ঘটনার পরই ইসিএলের বিরুদ্ধে রক্ষণাবেক্ষণে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে কোলিয়ারির বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় একাধিক পুরনো আবাসন বিপজ্জনক ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হলেও, একই সময়ে এই প্রায় সাত দশকের পুরনো জলের ট্যাঙ্কটিকে শুধুমাত্র নামমাত্র মেরামত করে ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও স্থায়ী সংস্কার বা নতুন জলের ট্যাঙ্ক নির্মাণের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ।