পশ্চিম মেদিনীপুর: গড়বেতায় এবার মিছিল ফেরত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল সিপিএমের একাংশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিজেপি-সিপিএম সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গড়বেতার খড়কুশমা বাজার। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে নাম জড়ায় সিপিএমের। পাল্টা সিপিএমের জোনাল পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। পাল্টা বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, এলাকায় উত্তেজনার পিছনে রয়েছে সিপিএমের মদত। সেই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল গড়বেতা শহরে প্রতিবাদ মিছিলও করে বিজেপি। অভিযোগ, সেই মিছিল থেকে ফেরার পথে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর ফের হামলা চালায় সিপিএম। গোটা ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক শামেদ গায়েন, এমনটাই দাবি করেছে বিজেপি। মিছিল ফেরত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সিপিএমের দাবি, বিজেপির তরফেই এলাকায় চালানো হয় তাণ্ডব।

গতকালই বাঘাযতীনে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে তছনছ করে দেওয়া হয়েছিল পার্টি অফিস। পড়ে ছিল দলীয় পতাকা। ভেঙে ফেলা হয়েছে শহিদ বেদি। একই সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যাদবপুরের আনন্দপল্লিতে। সেখানে তৃণমূলের পার্টি অফিসের পতাকা ছেঁড়া হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে সিপিএমের শহিদ বেদি। প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘৮ টা নগদ আসে। ১০০ জনের মতো লোক ছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে পার্টি অফিস ভাঙতে ভাঙতে আমাদের শ্যামা কলোনি, আনন্দপল্লি পরে বাঘাযতীন। আমি একটা জায়গায় বসে আড্ডা মারি, সেই জায়গাটা ভেঙেছে। এই করতে করতে গিয়েছে। একটা আধটা ছেলেকে সিসিটিভিতে দেখে চেনা মনে হয়েছে। সব বাইরেরই দুষ্কৃতী। প্রশাসনকে দেখতে হবে। আমি দেখেছি একশো – দেড়শো ছেলে এসেছে। আর তারা অর্গানাইজড, জিনিসপত্র সব নিয়ে এসেছে।’

সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত হাতে মাইক নিয়ে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন, ‘এলাকার বিজেপির নেতা ও কর্মী, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি করেন, তাঁদের কাছে আমরা অনুরোধ জানাতে এসেছি। আপনারা দয়া করে আপনাদের হুলিগানদের সংযত করুন। এই হুলিগানরা জানে না যাদবপুরের ঐতিহ্য কী। এই হুলিগানরা জানে না যাদবপুরের মাটি কী। যে প্রাক্তন বিধায়ক ও এই অঞ্চলের প্রাক্তন কাউন্সিলর, তাঁর বাড়িও তারা নাকি আক্রমণ করেছে। রাজনীতিগত ভাবে আমাদের পৃথক অবস্থান থাকলেও, আমি আবার বলছি, এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষজনকে এবং যদি বিজেপি কর্মী, নেতা কেউ আমাদের বক্তব্য শুনে থাকেন, আপনারা দয়া করে এই হুলিগানদের সংযত করুন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *