কলকাতা: ৯ মাস বাড়ল চাকরির মেয়াদ, সুপ্রিম কোর্টে কিছুটা স্বস্তি ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের। চাকরির মেয়াদ বাড়াতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্য সরকার এবং ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা। সেই মামলাতেই এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এসেছে যে, আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি বহাল থাকবে।’ সুপ্রিম নির্দেশের পর, এবিপি আনন্দ-র মুখোমুখি শিক্ষক- শিক্ষিকারা।
আরও পড়ুন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশ
রায়গঞ্জ দেবীনগর কৈলাসচন্দ্র রাধারানি বিদ্যাপিঠের শিক্ষিকা কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথ বলেন,’বারেবারে আমরা হ্যাঙ্গিং সিচ্যুয়েশনে চলে আসছি। ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা আমাদের বাচ্চা, পরিবারের কথা ভেবে, মানে আমার বাচ্চার ফারদার এডুকেশন, আমি কী করবো, না করব, কারণ আমি বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে চাকরি করি, সেখানে দাঁড়িয়ে আমি কীভাবে কী করব ! ? সত্যি কথা বলতে আমার, জীবনের যে একটা পরিকল্পনা নিয়ে চলে, সেই জায়গাটা ভীষণভাবে আরকি, হ্যাম্পার হচ্ছে। মানে এক্সটেনশন না হলেও, যেরকম একটা আশঙ্কা থাকত, সার্ভিস ব্রেক বা এই সমস্ত বিষয়গুলি, তেমন এইটা হয়েও যে খুব একটা স্বস্তি পেলাম, এরকম নয়। কারণ আজকে ওবিসি কেসে আমাদের হ্যাং করা হল। আবার ওবিসির সমস্ত কিছু আমাদেরকে আপডেট করতে বলল। সেখানে আবার ওবিসি-তে আমাদের ঝামেলায় ফেলে, ওবিসির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। প্যানেল রিকাস্ট বা রিপ্যানেল কিছু কথা বলা হল। আবার নাকি আমার তো রেকমেন্ডডেশনও হয়ে গিয়েছিল। সেখানে আবার নাকি রেকমেন্ডডেশন হবে। এসব কথাও শুনলাম। তো পুরো বিষয়টাই আবার খুব গোলমেলে হয়ে গেল।’
অপরদিকে একজন শিক্ষক বলেন,’ এই যে প্রসেস, ২৫-র যে প্রসেসটা চলছে, সেই প্রসেসের মধ্যে নতুন জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। এবং রিক্রুমেন্টটা ক্রমশ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এবং আজকে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এটাই লাস্ট এক্সটেনশন।আমাদের স্পষ্ট দাবি, আজকে আমদের লইয়াররা যেভাবে বলেছেন, বোর্ডের লইয়াররা, ঠিক আরেকটু উচ্চকিত হয়ে, এক্সটেনশনটা আরেকটু বেশিই দিতে পারত।কারণ নির্দিষ্ট নির্ধারিত সময়ে তাঁরা নিয়োগ করতে পারছে না। এটা এক নম্বর। দ্বিতীয় হচ্ছে, যে পঁচিশের প্রসেসটা চলছে, আর নতুন সরকার আসার পর থেকেও আমাদের সঙ্গে একবারও তাঁরা, সাক্ষাৎ সম্পর্ক করেনি, বসেনি। আমাদের ব্যাপারে কোনও কথা বলেনি। আমরা বারবার আবেদন করেছি, যাতে তাঁরা বসেন।আমাদের জন্য অর্থাৎ আনটেন্টেড টিচার এবং নন টিচিং স্টাফদের জন্য, একটা নির্ভরযোগ্য সলিউশন আসে বা নিয়ে আসতে পারে, তার জন্য আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চাইছি। কারণ এটা মাত্র ৯ মাস টাইম, আর এরমধ্যেই লাস্ট এক্সটেনশন, তাই নতুন নতুন জটিলতা।’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়েছিল সুপারিশপত্র প্রদান। সেসময় একাদশ দ্বাদশের একাংশকে দেওয়া হয়েছিল নিয়োগের সুপারিশ পত্র। সেসময় হারানো চাকরি ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন শিক্ষিকা কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথ। বলেছিলেন, এটুকুই বলব, আমার শত্রুর সঙ্গেও যেনও এণন ঘটনা না ঘটে।কারণ অনেক কষ্টের পর, অনেক সাধনার ফলে আমরা এই চাকরি পাই। অনেক কষ্টের ফল আমাদের, কিন্তু যে অসম্মান-অপমান আমাদের প্রতিমুহূর্তে সইতে হয়েছে, সেটা আমরা কোনওদিনও ভুলতে পারিনি।যে সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা গি.য়েছি, যে সামাজিক অপমান সহ্য করেছি, সেটা শুধু আমরাই জানি। নিজেদের ঢোল নিজেদের পেটাতে হয়েছিল…নিজেদের জারি করতে হয়েছিল আমি ইউনিভার্সিটির টপার। সেটা আমার কাছে খুবই লজ্জার। আমরা যেনও কনটিনিউশনটা পাই। কারণ আমাদের চাকরি চলে যাওয়ার পিছনে আমাদের কোনও দোষ ছিল না।’