কলকাতা: চোরবাগানের মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায়, অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে পুজোর আনন্দ। উৎসবের মাঝে যেন দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে মৃত্যু-ভার। পুজোর দিনে, চোরবাগানের মণ্ডপে, পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের… তাদের মধ্যে রয়েছে ৭ বছরের শিশুও।
এবার আরএসএস প্রধানের মুখে চোরবাগান বিপর্যয়। নেপাল বিপর্যয়ের পর সম্প্রতি কলকাতাতেও একটা বিপর্যয় হয়েছে। কিন্তু সেটা প্রকৃতির দোষ নয়, আমাদের ভিড়ের জন্যই দুর্ঘটনা। নাগপুরের অনুষ্ঠানে বার্তা মোহন ভাগবতের।
স্বজন হারা পরিবারের অনেকেই অনেকেই আঙুল তুলছেন পুলিশের দিকে। কিন্তু এই কলকাতা পুলিশই তো প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ সামলান। ঠাকুর দেখার, বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেন। তাদের ব্যবস্থা গোটা বিশ্বে প্রশংসিত হয়। তাহলে কেন এড়ানো গেল না শনিবারের ঘটনা? ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা গেল না কেন? কোথায় ছিল পুলিশ? কী করছিলেন পুলিশ কর্তারা?
কলকাতার দুর্গাপুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল উপচে পড়বে, এই ছবিটাই যুগ যুগ ধরে দেখে আসছে সবাই। এই ছবিটাই চেনা ছবি। প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের একাংশ বলছেন, অতীতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু যখনই দেখা গেছে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। থমকে গেছে রাস্তাঘাট। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যে, কোনও ধরণের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তখনই নামানো হয়েছে পুলিশের অভিজ্ঞ কর্তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন তাঁরা। তাহলে এবার কি তা করা হয়নি? প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।
এদিকে, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান থেকে নদিয়া। নবমীর সকাল থেকে চোরবাগানে মৃতদের বাড়িতে যাচ্ছেন মুখ্য়মন্ত্রী। কিছুক্ষণ আগে চাকদায়, মৃত আরতি সরকারের বাড়িতে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মৃতের ছবিতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি কথা বলেন পরিবারের সঙ্গে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি কখনও ছোট ঘটনা, লাভ অ্য়াফেয়ার বলিনি। বিদ্য়ুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যুর পর ডান্ডিয়া নেচেছিলেন। মানুষ আগের সরকার ও এখনকার সরকারের পার্থক্য দেখতে পাচ্ছে। আগে কখনও ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে? আমাদের কারও দায়িত্ব বোঝানোর দরকার নেই। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই এখন সরকারের অগ্রাধিকার’।