সৌভিক মজুমদার, কলকাতা : চোরবাগানের ঘটনায় নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারবে রাজ্য, নির্দেশ প্রধান বিচারপতির । কর্মরত কোনো বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠনের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানায় রাজ্য। কিন্তু রাজ্যের অনুরোধে পরিবর্তন এনে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে।
আদালত জানায়, ” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কর্মরত বিচারপতিকে কমিশনে নিযুক্ত করা সম্ভব নয় “। বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী এবং বিচারপতিদের সংখ্যার অপ্রতুলতার কথা মাথায় রেখে কোনও কর্মরত বিচারপতিকে দিয়ে কমিশন গঠন সম্ভব নয়। তাই রাজ্য নিজের পছন্দমতো একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করতে পারবে।
চোরবাগানের দুর্ঘটনা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। জরুরি ভিত্তিতে সেই মামলার মঙ্গলবার শুনানি হয়। বিচারপতি শুনানি চলাকালীন মন্তব্য করেন, তদন্ত কমিশনের জন্য একজন কর্মরত বিচারপতিকে মনোনীত করার জন্য সরকারের তরফ থেকে তাঁর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। তাই তাঁর মনে হয়েছে, রাজ্য সরকারের সঠিক তদন্তের সদিচ্ছা আছে।
অন্যদিকে, জনস্বার্থ আবেদনকারীর (PIL petitioner) পক্ষের আইনজীবী , কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানির সময় সওয়াল করেন, সরকারের সঙ্গে সঙ্গে পুজো কমিটিতেও পরিবর্তন এসেছে। সেই সঙ্গে অনভিজ্ঞ মানুষরাও এসে পড়েছে। এবছর ভিড় কম হয়েছে, আগেরবার ভিড় অনেক ভিড় হয়েছিল। পুলিশ সমস্ত কিছু নিরীক্ষণ করে দেখে। এবছর পুলিশের কেউ এই প্যান্ডেল পর্যবেক্ষণ করতে আসেনি. পুলিশ কমিশনার নিজে ঘুরে ঘুরে দেখতেন। চোরবাগানের প্যান্ডেলের নকশা একটা জেলখানার মতো ছিল, হওয়া চলাচলের জায়গা নেই, পর্যাপ্ত আলো নেই। পুলিশ কি করছিল ? তারা খতিয়ে দেখেননি কেন ? মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্বোধন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে তো এগুলো দেখবেন না, পুলিশ কি করছিল ?
চোরবাগান সর্বজনীনে মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে কর্মরত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে কমিটির প্রধান হিসেবে একজন কর্মরত বিচারপতির নাম সুপারিশ করার অনুরোধ জানান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই কমিশন প্রশাসনিক ত্রুটি, নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে। তারা সব দিক পর্যবেক্ষণ করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেবে। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন যে কলকাতা পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং কলকাতা পৌর সংস্থার কেউ এই কমিশনে থাকবেন না।