কলকাতা: নেপালে বরাতজোরে বেঁচে গেছেন একই ট্যুর অপারেটরের তত্ত্বাবধানে থাকা চেন্নাইয়ের ২১ জন। আর তাঁদের জন্য সেখান থেকে ১ ঘণ্টা দূরে চিনের ইমিগ্রেশন সেন্টারের কাছে যখন এরাজ্যের ৩২ জন অপেক্ষা করছিলেন, তখনই সেখানে নেমে আসে বিপর্যয়। এরপর থেকেই খোঁজ নেই এ রাজ্যের ৩২ জনের। 

নেপালে ভয়ংকর বিপর্যয়ের পর থেকে খোঁজ নেই এ রাজ্যের ৩২ জনের। তারা কোথায়? কোন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ হয়ে গেলেন? এই প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না কোনওভাবেই। এবার তাঁদের ব্য়াপারে সামনে এল বেশ কিছু তথ্য। বিপর্যয়ের দিন কী ঘটেছিল, তা জানাল ট্যুর অপারেটর সংস্থা। এ রাজ্যের ট্য়ুর অপারেটর সংস্থা ‘চলো যাই’-এর সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবর গেছিলেন ৩০ জন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ‘চলো যাই’-এর ২ জন কর্মী। চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতা থেকে বিহার-নেপাল রক্সৌল বর্ডার পর্যন্ত ট্য়ুর অপারেটরের দায়িত্বে থাকে ‘চলো যাই’। 

ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ২১জন পর্যটকের

রক্সৌল বর্ডার পার করে পর্যটকরা নেপালে ঢুকে গেলেই দায়িত্ব চলে যায় সম্রাট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড-এর হাতে। নেপাল-চিন সীমান্তের ইমিগ্রেশন পার করা পর্যন্ত সবকিছুর দায়িত্বে থাকে তারাই। চিনে ঢুকে গেলে সেখান থেকে আবার পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব চলে যায় চিনের ট্যুর অপারেটর সংস্থার কাছে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিনতু বিপদ আসে চেন্নাই-এর একটি টিমের অপেক্ষা করতে করতে। চেন্নাই থেকে আসা সেই ৬০ জনের দলের দায়িত্বও ছিল সম্রাট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড-এর হাতে। ২৬ অগাস্ট বাসে করে নেপালের টিমুর থেকে মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দেয় এরাজ্যের ৩২ জনের দলটি। নেপালের ইমিগ্রেশন থেকে ছাড়পত্রও পেয়ে যান তাঁরা। সম্রাট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রাইভেট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার রাজারাম তিওয়ারি বলছেন, ‘কলকাতা গ্রুপ অলরেডি পৌঁছে গেছিল। ডিপারচার স্ট্যাম্প লাগিয়েছিল নেপালের ইমিগ্রেশন থেকে। চেন্নাই গ্রুপের জন্য অপেক্ষা করছিল একসাথে এন্ট্রি করার জন্য (চিনে)’।

নেপাল ইমিগ্রেশন পার করে চিনের ইমিগ্রেশন সেন্টারের মাঝে রয়েছে একটি কমন প্যাসেজ। এই জায়গা হেঁটেই পার করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও চেন্নাইয়ের মোট ৯২ জনকে নিয়ে একসঙ্গে চিনের ইমিগ্রেশন সেন্টারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ট্রাভেল এজেন্সির। এ রাজ্যের ৩২ জনের টিমের পিছনেই রওনা দিয়েছিল চেন্নাইয়ের ৬০ জনের দলটি। কাঠমাণ্ডু থেকে ৩ টি বাসে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের জন্য় চিনের ইমিগ্রেশন সেন্টারে ঢোকার আগে অপেক্ষায় রাখা হয় এরাজ্যের ৩২ জনকে। এরই মাঝে টিমুর বাজারের কাছে ছোটখাটো ধস নামে।  ধস সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার হতেই এগোতে থাকে চেন্নাইয়ের পর্যটকদের ৩ টি বাস।  প্রতিটি বাসেই ছিলেন ২০ জন করে চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। ৩টি বাসের মধ্যে তৃতীয় বাসটির আগে চলে আসে একটি প্রাইভেট গাড়ি। 

প্রাইভেট গাড়িটিকে পাশ কাটিয়ে এগোতে যায় ২০ জন চেন্নাইয়ের পর্যটক ভর্তি ওই বাসটি। যাতে আগের ২ টি বাসের সঙ্গে একসঙ্গে যেতে পারেন। কিন্তু উল্টোদিক থেকে এসে পড়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স। অ্যাম্বুল্যান্সকে জায়গা দিতে, পাশে একটি উঁচু রাস্তায় বাস নিয়ে উঠে যান চালক। সেই সময়ই নীচের দিকের রাস্তায় উঠে আসে ভয়ঙ্কর হড়পা বান, ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় এলাকা। শুধুমাত্র বরাতজোরে বেঁচে যান এই বাসে থাকা ২১ জন। কারণ অ্যাম্বুল্যান্সকে সাইড দিতে গিয়ে অপেক্ষাকৃত উঁচু রাস্তায় উঠে গেছিলেন বাস চালক। ততক্ষণে প্রায় ১ ঘণ্টা দূরে থাকা নেপাল ইমিগ্রেশন সেন্টারও ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে। যেখানে চেন্নাই টিমের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এ রাজ্যের ৩২ জন। 

চেন্নাইয়ের এই ২১ জন-এর বেঁচে গেলেও, তাদের জন্য অপেক্ষায় থাকা ৩২ জনের টিমের প্রত্যেকে নিখোঁজ। যার মধ্যে রয়েছেন মুকুল রায়ের পুত্রবধূ,  শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। এই ৩২ জনের কে এখন কোথায় জানেন না তাঁদের পরিজনরা।  শুধুই পথ চেয়ে থাকা। শুধুই অপেক্ষা।

আরও পড়ুন: Landslide on Railway Track: লাইনে ধস, ব্যাহত রেল পরিষেবা! বাসের টিকিটের জন্য হাহাকার ধর্মতলায়, দামও বাড়ল কয়েক গুণ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *