কলকাতা: বৃহস্পতিবার সকালেই দুঃসংবাদ। প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা, নানা পাটেকর (Nana Patekar)। গোয়ায় শ্যুটিং করতে গিয়েছিলেন অভিনেতা। সেখানেই গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সেই কথা জানিয়েছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে। কিন্তু গভীর রাত হওয়ার ফলে, সেই মেসেজ দেখেননি বন্ধু, ফোনও ধরতে পারেননি। ভোরে তাঁর বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হয় কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসা শুরু করেছিলেন ডাক্তাররা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া।
নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মিঠুন চক্রবর্তীর
নানা পাটেকরের প্রয়াণে মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) বলছেন, ‘আমার খুব ভাল বন্ধু ছিলেন নানা পাটেকর। ওঁর মৃত্যুতে শোকাহত। ভীষণ দুঃখ পেয়েছি। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। বলিউড তারকা হলেও, একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করতেন। সাদামাঠা পোশাক পরতেন। মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। যখন যাঁর দরকার হত, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন উনি। ওঁকে নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলেছেন যে, উনি নাকি ভীষণ রাগ করতেন। দেখুন, রাগ তখনই হয়, যখন রাগের কারণ ঘটে। রাগ আমার হয় না? অযথা রাগ করতেন না কখনোই।’ মিঠুন আরও বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে সাগর সঙ্গম বলে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলাম। কিন্তু তার বাইরেও আমাদের সম্পর্ক বজায় ছিল চিরকাল। খুব ভাল বন্ধুকে হারালাম।’
শিশুকাল থেকে লড়াই করেই বড় হয়েছেন নানা পাটেকর
চরম দারিদ্রে কেটেছে তাঁর শৈশব। যে সময়ে তাঁর পড়াশোনা করার বয়স, সেই সময়েই তাঁকে আর্থিক উপার্জন নিয়ে ভাবতে হত! মাত্র ১৩ বছর বয়সে, পড়াশোনার পাশাপাশি সিনেমার পোস্টার আঁকা শুরু করেছিলেন নানা পাটেকর। সেভাবেই প্রথম উপার্জন শুরু। পরবর্তীতে মুম্বইয়ের বিখ্যাত জে জে আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। এরপরেই পা রাখেন রুপোলি পর্দায়। ১৯৭৮-এ মুজফফর আলির ‘গমন’ ছবির হাত ধরে, অভিনয় জীবনে পা রেখেছিলেন নানা পাটেকর। ‘পারিন্দা’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘ক্রান্তিবীর’ সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে তিনটি জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। ‘অঙ্গার’, ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অপহরণ’ ছবিতে অভিনয় করে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা। নানা পাটেকরের পরিচালনায় মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘প্রহার’ দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ‘খামোশি দ্য মিউজিক্যাল’-এ তাঁর অভিনয় চিরস্মণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৩-য় পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করা হয় নানা পাটেকরকে।