শুভেন্দু ভট্টাচার্য, মেখলিগঞ্জ: কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা। নদী থেকে বালি পাচার করছিল বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। বাধা দিতে গেলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী BSF-কে লক্ষ্য় করে হামলা চালানো হয়। পাল্টা গ্রেনেড ছোড়ে BSF. সোশ্য়াল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যাতে চিৎকার, চেঁচামেচি শোনা গিয়েছে। গালিগালাজ করতেও শোনা যায় দুষ্কৃতীদের। BSF-এর তরফে  এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি বিষয়টি নিয়ে। (Cooch Behar Border Clash)

কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বালিপাচারকে ঘিরে অশান্তি বাধে বলে জানা গিয়েছে। মেখলিগঞ্জের উপর দিয়েই এগিয়েছে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। ভারতের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে বয়ে চলেছে সানিয়াজান নদী। এই সানিয়াজান নদী খুঁড়ে বরাবর বালিপাচারের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদী থেকে বালি-পাথর তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। মাঝে মধ্যেই বালিপাচারে বাধা দেয় BSF, তার পরও অপরাধ আটকানো যায়নি। (India-Bangladesh Border)

আরও পড়ুন: কোচবিহার সীমান্তে উত্তেজনা, বালিপাচারে বাধা দেওয়ায় BSF-এর উপর হামলা বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের, পাল্টা গ্রেনেড ছোড়া হল

শনিবারও একই ঘটনা ঘটে। সানিয়াজান নদী থেকে বালি-পাথর পাচারের চেষ্টা করে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। বাধা দিতে গেলে BSF-এর দিকে তেড়ে যায় লাঠিসোঁটা, অন্য হাতিয়ার নিয়ে। এর পর আত্মরক্ষার্থে BSF একরাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এর পরই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এলাকাবাসীদের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দাপট। ভারতীয়দের জমি থেকে ফসল কেটে নিয়ে যাওয়া থেকে নদী থেকে বালি-পাথর পাচার চলে আসছে। বাধা দিতে গেলে BSF-এর উপরও হামলা চালায় তারা। তবে গতকাল পাল্টা আক্রমণ করে BSF.

BSF-এর তরফে এখনও এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে গোটা ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দা প্রশান্তকুমার রায় বলেন, “মোটামুটি ৪০-৫০ জন দুষ্কৃতীরা এসে খনন করছিল নদীতে। পাথর তুলছিল। BSF এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মানেনি ওরা। বরং BSF-এর উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এর পর এক রাউন্ড গ্রেনেড ফায়ার করে BSF. তাতে সরে যায় ওরা।”

আরও পড়ুন: মিত্তলদেরে হাত থেকে স্টিল ব্যবসা নিয়ে নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার, এই পরিস্থিতি তৈরি হল কেন?

প্রশান্তর কথায়, “আমাদের কথা হচ্ছে, নদীটা তো ভারতের! ভারতের নদী থেকে এভাবে প্রতি নিয়ত বালি-পাথর তুলে নিয়ে গেলে নদী তো পাড়ের দিকে চলে আসবে! আমাদের অসুবিধে হয়ে যাবে তাতে। BSF যদি সজাগ থাকে, যদি কড়া ব্যবস্থা নেয়, আমাদের সুবিধা হয়। নদীটাও বাঁচে।” এই মুহূর্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এলাকায়, যাতে এমন ঘটনা এড়ানো যায়। মোতায়েন করা হয়েছে বাহিনী। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *