কলকাতা: দশমীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে, বেহাল দশা দেখে শিউরে উঠেছিলেন বিজেপি সাংসদ। যে জায়গায় সুস্থ মানুষের হাঁটাচলা করে বেড়াতেই অসুস্থবোধ হচ্ছে, সেখান থেকে অসুস্থ মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন কী করে? কীভাবে হবে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষা? দশমীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে অপরিচ্ছন্নতা, অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। হাসপাতালে দাঁড়িয়েই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন বিজেপি সাংসদ। আর এই ঘটনায় পরেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেওয়া হল। সাংসদের অভিযোগ পেয়েই পদক্ষেপ নিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো হাসপাতালের MSVP-সহ ৮ জনকে শোকজ করা হল।
অপরিচ্ছন্ন হাসপাতাল, তড়িঘড়ি পদক্ষেপ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ঠিক কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, পুজো শেষের পরেই, পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো হাসপাতালে যান বিজেপি সাংসদ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। আর সেখানে গিয়েই কার্যত চমকে ওঠেন বিজেপি সাংসদ। হাসপাতালে চূড়ান্ত অব্যবস্থা, অপরিচ্ছন্ন অবস্থা। হাসপাতালের এই বেহাল দশা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন বিজেপি সাংসদ। আর তারপরেই, MSVP-সহ ৮ জনকে শোকজ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ৬ ঘণ্টার মধ্যে দেবেন মাহাতো হাসপাতাল সাফাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, কাল রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে স্বাস্থ্যভবনে বৈঠক করার কথা রয়েছে। হাসপাতালের বেহাল স্বাস্থ্য দেখার পরেই, হাসপাতালে দাঁড়িয়েই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন বিজেপি সাংসদ। সাংসদের অভিযোগ পেয়েই পদক্ষেপ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
কী পরিস্থিতি হাসপাতালের? কী বলছেন বিজেপি সাংসদ?
এই ঘটনা নিয়ে, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, ‘গোটা বিষয়টা নিয়ে আমি খুব আহত। নতুন সরকারকে বদনাম করার জন্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বদনাম করার জন্য এইসব করা হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আগের সরকারের আমলে যারা কাজ পেয়েছে.. ইচ্ছাকৃতভাবে যাতে এই সরকারের ব্যর্থতা দেখানো যায়, যাতে মানুষের চোখে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা যায়, সেই উদ্যোগ নিয়ে এখানে কাজ হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া রয়েছে। আমি এবং আমার সঙ্গে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাই পরিষ্কার করব। এজেন্সি না কাজ করলে, আমরা করব। এভাবে সরকারকে ছোট করা যাবে না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের জানা নেই, আমাদের অনুমতি ছাড়া ওই হাসপাতালের অধ্যক্ষা, MSVP, মেডিক্যাল সুপারের ৬ জনের মধ্যে ৫ জন ছুটিতে ছিলেন। কারণ জানা যায়নি। সাফাই কর্মচারী বা ওয়ার্ড বয় স্থরের লোক দেওয়া রয়েছে, সাফাই করার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দেওয়া রয়েছে। গলদটা হয়েছে, অধ্যক্ষা, MSVP, নন মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট নেই। হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুদায়িত্ব তো তাঁদেরই। প্রত্যেককে শোকজ করা হয়েছে।’