কলকাতা: পুজো চলাকালীন রাজ্য়ের নানা প্রান্তে বামেদের বুকে স্টলে চলেছে ভাঙচুর। কোথাও বই ফেলে দেওয়া হয়েছে পুকুরে, কোথাও বুকস্টল ভাঙতে আনা হয়েছে বুলডোজার। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। যা নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে সিপিএম।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘যারা দুর্গাপূজাকেই মানে না, তাদেরকে পুজোর সময় বই বিক্রি করতে না দেওয়াই ভাল।’ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি তথাগত রায় বলেছেন, ‘শুভেন্দু অধিকারীকে গত ২ বছর, ৩ বছর ধরে ক্রমাগত সমর্থন করে আসছি। তার কারণ, ওর মতামত আমার মতামত খুব মিলে যায়।’
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘কার মৌরসীপাট্টা? বিজেপির মৌরসীপাট্টা?’
এবার দুর্গাপুজোর মধ্য়ে চর্চার অন্য়তম কেন্দ্রবিন্দু বামেদের বুক স্টল ভাঙা! বই ফেলে দেওয়া! বই ছিঁড়ে দেওয়া! আগুন লাগিয়ে দেওয়া! সিপিএমের বুক স্টল ভাঙতে পুলিশের পৌঁছে যাওয়া! এমনটি বুক স্টল ভাঙলে বুলডোজার নিয়ে যাওয়া!
সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘বাংলা বোঝে না, শরৎচন্দ্রর নাম জানে না, পথের দাবি শোনেনি, মানে বাংলা বিরোধী, অবাঙালি তো বটেই, বাংলা বিরোধী।’
সবার প্রথমে বামেদের বুক স্টল নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রী একটি মন্তব্য় করেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘দুর্গাপুজো বলেন না, শারদোৎসব! আমি সব দুর্গাপূজা কমিটিকে বলব, এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে গেলে শারদোৎসবের জায়গায় যদি দুর্গাপুজো না লেখে, একটা স্টলও করতে দেবেন না।’
পুজো চলাকালীন রাজ্য়ের নানা প্রান্তে বামেদের বুকে স্টলে ভাঙচুর চালানো হয়! এই আবহে এবার মুখ খুললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। বলেছেন, ‘কী করে এদের বইয়ের স্টল খুলতে দেওয়া সম্ভব? সেটা আমার মাথায় আসছে না। যেখানে ওদের সরকার আছে, সেখানে আমি যদি করতে চাই ভেঙে দেবে। কিন্তু যেখানে আমার সরকার আছে,সেখানে ওরা করতে গেলে আমার কর্তব্য় হবে তাদের সেটা করতে দেওয়ার, এই তত্ত্বে আমি বিশ্বাস রাখতে পারছি না।’
সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘তথাগত রায় তো মোটামুটি বুঝিয়ে দিয়েছেন যেন, বইয়ের স্টল বামপন্থীরা করতে না পারে, এটা ওনার মত। কার মৌরসীপাট্টা? বিজেপির মৌরসীপাট্টা?’
তবে সিপিএমের বুক স্টল ভাঙা নিয়ে বিজেপির একাংশের মধ্য়ে নরম সুরও লক্ষ্য় করা গেছে। রাজ্য় বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দল স্টল দিতে পারে। যে কোনও জায়গায় দিতে পারে, অনুমতি সাপেক্ষ। এটা তাদের অধিকারের মধ্য়ে পড়ে। বুলডোজার নিয়ে চলে যাচ্ছে, এটাকে সমর্থন করব এটা কল্পনা করাও পাপ।’
অর্থমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত বলেছিলেন, ‘শমীক বাবু তো বলেইছেন। বার্তাটা তাদের একটাই থাকবে যে এই ধরনের জিনিস আমরা সমর্থন করি না। এই ধরনের অসভ্যতামি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।’
তাহলে কি বুক স্টল নিয়ে বিজেপির মধ্য়েও মতপার্থক্য় আছে?
তথাগত রায় বলেছেন, ‘অতীতে বিজেপির মধ্য়ে কখনই ছিল না, এরকমটা নয়। যে অটলবিহারী বাজপেয়ী যখন প্রথম বিজেপির হাল ধরলেন, বিজেপি দল তৈরি হওয়ার পর তখন কতগুলো জিনিস বলেছিলেন, যেগুলো নিয়ে বহু লোকের মধ্য়ে খুব আপত্তি ছিল। পরে আডবাণীজি ক্ষমতায় আসার পরে, যখন আমাদের প্রচারের চিন্তাভাবনার ধরণটা পাল্টে গেল , তখন আমাদের আসন ২ থেকে ৮৮ হয়ে গেল।’
মমতা-তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, ‘যারা স্টল ভাঙার পক্ষে তারা হচ্ছে ফ্যাসিস্ট। হিটলারই এই বই পোড়ানো শুরু করেছিল ১৯৩৩ সালে।’ সব মিলিয়ে বুকস্টলে ভাঙচুর নিয়ে বিতর্ক অব্য়াহত।