কলকাতা: পুজোর মধ্যে মদন মিত্রের (Madan Mitra) চোখে জল, রাজনীতি ছাড়তে চান কামারহাটির বিধায়ক!

এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মদন মিত্র বলেছেন, “এত চোখের জল কোনও পুজোয় পড়েনি। আমি চারবারের বিধায়ক, অথচ নিজের কেন্দ্রে যেতে পারলাম না। আতঙ্ক-সন্ত্রাস-নিরাপত্তাহীনতার জন্য যেতে পারলাম না। খুনিরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বুঝতে পারলাম, ঈশ্বর ছাড়া কেউ আশ্রয় দিতে পারেন না।”

তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো, এখন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবং রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। মদন মিত্র বলেছেন, “শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিজয়ার শ্রদ্ধা। এখন রাজনীতিকে আমি ঘৃণা করি, চালের মধ্যে কাঁকড় বেশি।” আক্ষেপ গণতান্ত্রিক তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্রের।

মদন মিত্র বলেছেন, “আমার রাজনৈতিক জীবনে যতদিন হয়েছে, এত চোখের জল কোনও পুজোয় পড়েনি। আমি চারবারের বিধায়ক। গত পরশুদিন কলকাতায় কয়েকটি বড় পুজোয় আমাকে জোর করে নিয়ে গিয়েছিল। আমি আড়াই ঘণ্টা ছিলাম। একেবারে মানুষের মধ্যে। একজন সিকিউরিটিও আমার সঙ্গে ছিল না। তারা সবাই দেখছিলাম হাসছে, ছবি তুলছে, হাত জোড় করছে। তবে তারা দেখতে পাচ্ছিলেন না আমার চোখ দিয়ে জল পড়ছে। জীবনে আমার এটা প্রথম বিজয়া, প্রথম দশমী, আমাকে যারা জিতিয়েছে তাদের কাছে যেতে পারলাম না।”

যেতে পারলেন না কেন? মদন বলছেন, ‘আতঙ্ক, সন্ত্রাস, নিরাপত্তার ভয়। আমাকে খুনের চেষ্টা হয়েছে। ধন্যবাদ জানিয়েছি আমি শুভেন্দু অধিকারীকে। আমি ওকে জানিয়েছি, ও পুলিশকে বলে ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু যাবার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি বলেন, এরপরেও গেলেন না কেন? হ্যাঁ যাব, তাতে যদি মৃত্যুও হয় আমি যাব।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ফ্লোর টেস্টে হলে ২৭৫ হয়ে যাবে, মদন বলছেন, ‘আপতি তো মেজরিটি। ইস্কাবনের টেক্কা। আপনি ফোর নো ট্রাম্প দিয়ে শুরু করেন। আপনি কেন করবেন? আপনার মেজরিটি নিয়ে কেউ কিছু বলছে না। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনি একজন বিধায়ক। আপনি সব জায়গায় গেলেন। আমি যেতে পারলাম না। যারা আমাকে জিতিয়েছে, তাদের কাছে যেতে পারব না। খুনিরা হাতে অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি চারবারের বিধায়ক।’

ভবিষ্যৎ কী? ‘আমি বলতে পারব না। মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেই চেষ্টা করব। তার একমাত্র পথ রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *