সন্দীপ সরকার, ঝিলম করঞ্জাই ও কমলকৃষ্ণ দে, কলকাতা : বিহারের ভুয়ো সার্টিফিকেট দেখিয়ে, পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন নম্বর আদায়ের অভিযোগ। আর সেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখিয়েই চিকিৎসক হিসেবে চুটিয়ে প্র্যাক্টিস। সে সরকারি হাসপাতালেই হোক বা নার্সিং হোমে। এমনই মারাত্মক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার তদন্ত শুরু করল স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্য়েই ১ চিকিৎসককে তলব করেছেন উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য় স্বাস্থ্য় আধিকারিক।
বিহার থেকে প্রথমে ভুয়ো সার্টিফিকেট জোগাড়, তারপর সেই সার্টিফিকেট দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন নম্বর আদায়। আর সেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখিয়েই চিকিৎসক হিসেবে চুটিয়ে প্র্যাক্টিস। সরকারি হাসপাতালেই হোক বা নার্সিং হোম – এমনই মারাত্মক অভিযোগ উঠল এবার এ রাজ্যে। এরকম এক অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই তলব করেছেন উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য় স্বাস্থ্য় আধিকারিক। তাঁকে তাঁর যোগ্যতার সমস্ত শংসাপত্র নিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু কী করে সামনে এল এই চক্র?
সূত্রের খবর, সম্প্রতি অ্য়াসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্য়ান্ড নার্সিংহোমের তরফে স্বাস্থ্য় ভবনে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, অভিযুক্ত চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে বারাসাতে একটি নার্সিংহোম চালাচ্ছেন। পাশাপাশি কলকাতায়ও তাঁর ক্লিনিক রয়েছে। অন্য়দিকে, পূর্ব বর্ধমানের যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি ২৬টি বেসরকারি হাসপাতালে প্র্য়াক্টিস করেন।
অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল এবং নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশন-এর দাবি সন্দেহ হওয়ায় তাদের তরফে, অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের যোগ্যতার বিষয়ে জানতে চেয়ে বিহার মেডিক্য়াল কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সংগঠনের দাবি, বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিল জানিয়েছে, অভিযুক্ত দু’জনেরই নথিগুলি জাল। তবে এই দু’জনই নন, আরও তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা আবার বিহারের ভুয়ো নথি দেখিয়ে এ রাজ্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোগাড় করে স্বাস্থ্য দফতরেই চাকরি করছেন বলে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের এই সংগঠন। তাদের দাবি, গোটা বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য়মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্য়ায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু জাল নথি দেখিয়ে কীভাবে এ রাজ্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর পেলেন অভিযুক্তরা? এই অবস্থায়, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্য়ে, IMA-র রাজ্য় শাখার তরফে এ নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।