সন্দীপ সরকার, বিটন চক্রবর্তী, ও পূর্ণেন্দু সিংহ, কলকাতা: বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গির ভয়। কিছুদিন আগেই দমদমের এক নাবালকের প্রাণ কেড়েছে মশাবাহিত এই রোগ। এবার থাবা বসাল তপসিয়ায়। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত ১ হাজারেরও বেশি বেড়েছে । 

আরও পড়ুন, “আরও অনেক কিছু মোছা হবে”, যাদবপুরের ক্যাম্পাসে বিতর্কিত দেওয়াল লিখন মুছতেই কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এখন ঘরে ঘরে জ্বর, কোথাও ডেঙ্গি, তো কোথাও ম্যালেরিয়া।যার জেরে বাড়ছে আতঙ্ক।চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ দমদমে ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে এক নাবালকের।এবার ডেঙ্গি থাবা বসাল কলকাতা পুর এলাকাতেও। ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে ধরা পড়েছে ভয়ঙ্কর ছবি।তপসিয়ার বাসিন্দা দিপালী দাসের শরীরে একসঙ্গে থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়া।গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রয়েছেন তিনি। আক্রান্তের ছেলে বলেন, বুধবার থেকে জ্বর এসেছে। রিপোর্ট শুক্রবার হল। ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া দু’টোই হয়েছে। আরও বাড়ি বাড়িতে জ্বর। এই জায়গাটা পুরো একদম ময়লা। 
 
চিকিৎসক  অজয় সরকার বলেন, ডেঙ্গি একটা রোগ যেটা সম্পূর্ণ রোখা যায়। আমরা যদি আমাদের পারিপার্শ্বিক এলাকাকে ঠিকঠাক রাখি যাতে মশা থাকতে না পারে। সেটা করলেই এই রোগটাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আরেকটা জিনিস যেটা এখনও বাজারে আসেনি, কিন্তু এসে যাবে- ‘ডেঙ্গি ভ্যাকসিন’। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমে।’ভয় ধরাচ্ছে ডেঙ্গির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান।
 
রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা এই মুহূর্তে প্রায় ৩ হাজার। বিজেপি বিধায়ক ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন,’আমরা ডেঙ্গিকে ডেঙ্গিই বলব, অজানা জ্বর বলব না…।’জেলাগুলোর মধ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদে। দ্বিতীয় স্থানে একসঙ্গে রয়েছে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়া।স্বাস্থ্য অধিকর্তা স্বপন সোরেন বলেন,ডেঙ্গি প্রতিরোধের জন্য সমস্ত রকম বন্দোবস্ত করা আছে।প্রত্যেকটা গ্রাম স্তরেও সচেতনতা বার্তা দেওয়া হচ্ছে। একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে কিনা তার পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখা হয় এবং তার সমস্ত রিপোর্ট আমাদের গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়াকে পাঠাই। এই যে মশা জন্মায় এটা হচ্ছে আমাদের প্রাকৃতিক এবং আমাদের ব্যবহারগত পরিবর্তনের জন্য।’

তৃণমূল আমলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া আক্রান্ত প্রকৃত পরিসংখ্যান গোপন করার। বিজেপি আমলে বদলেছে সেই ছবি, এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,  ‘আমাদের পরিষ্কার নির্দেশ আছে, যা রোগ হবে সেটাই লিখতে হবে। আগের সরকার সংখ্যা কমাতো, রোগ লুকতো। লুকনোর কী আছে? যদি ডেঙ্গি থাকে, নিশ্চয়ই তার ব্যবস্থা হবে। চিকিৎসকদের ডেঙ্গি লিখতে গেলে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। ডেঙ্গি হলে ডেঙ্গিই লিখবেন। না হলে না-ই লিখবেন।’ডেঙ্গি হোক বা ম্যালেরিয়া, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার বংশবিস্তার রুখতে নিয়মিত নজরদারি জরুরি।জ্বর হলেই দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *