কলকাতা: চোরবাগানে পুজো প্যান্ডেলে বিপর্যয়, মৃত ১৯, আহত ১৪ । সাংবাদিকদের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  “ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার আধিকারিক মৃতদেহ হস্তান্তর করবেন। ২৫ জন আহতকে নিয়ে আমরা আশ্বস্ত। ভবানী ভবনে ভার্চুয়ালি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছি, কলকাতার CP-সহ পদস্থ কর্তারা ছিলেন। অন্ত্যোষ্টি ক্রিয়া পর্যন্ত থাকবেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়ার জন্য বলেছি।’

আরও পড়ুন, বিহার থেকে কলকাতায় সপরিবারে এসেছিলেন পুজো দেখতে, চোরবাগানে গিয়ে চোখের সামনে দেখলেন স্বামী ও শিশু সন্তানের মৃত্যু

“প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়ার জন্য বলেছি”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও অবধি ৮-৯ পরিবারের হাতে দেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, এমএলএ বিজয় ওঝা, মন্ত্রী তাপস রায় এবং আমাদের হেলথ সেক্রেটারি, এরা দাঁড়িয়ে থেকে সম্মানের সঙ্গে, পরিবারের হাতে আমরা বডি গুলি তুলে দিচ্ছি। এই যে ১৯ জন, যার মধ্যে ১৮ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা, প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট পদের অফিসাররা বডি বাড়িতে হ্যান্ডওভার করবে। ক্রিমেশন পর্যন্ত তাঁরা বাড়ির সঙ্গে থাকবে। যেসকল বাড়ির লোক শকড রয়েছে, তাঁদের লোকাল হাসপাতালের সঙ্গে, তাঁদের ফ্রিকোয়েন্ট মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।এবং যে বাড়িতে একাধিক লোক মারা গিয়েছে,  সেখানে এনজিও-দেরকেও দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে। যাতে পরিবারের মনোবল ঠিক থাকে। এই মানবিক দিকগুলি আমরা সব করেছি। প্রত্যেকটি ভিকটিম ফ্যামিলিকে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হবে।’

“সবাইকেই বলব, এই সময় উচিত রাজনীতি থেকে দূরে থাকা”

তিনি আরও বলেন, ‘মৃতদের পরিবারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। দর্শনার্থীদের অসুবিধা না করে ২ দিন মৃতদের বাড়িতে যাব। জেলায় ভিড় হয় এমন বড় পুজোয় ওসি-আইসি-রা পরিদর্শন করবেন। কলকাতার ক্ষেত্রে টিম তৈরি করা হয়েছে, তাঁরা পরিদর্শন করছেন..যা সংশোধন করার দরকার, ঘটনাস্থলেই সিদ্ধান্ত নেবেন। বেশ কিছুক্ষণ লালবাজার ট্রাফিক কন্ট্রোলে থাকব, শহরের অবস্থা আমার নিজের চোখে দেখা উচিত। দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা যা যা করার করব, সরকার দায়বদ্ধ। সবাইকেই বলব, এই সময় উচিত রাজনীতি থেকে দূরে থাকা। আমি ১৩টা মৃত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানিয়েছেন, অ্যাপ ক্যাব বুক করে তাঁরাই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

 “২৬ অক্টোবর মিলন মেলায় বিজয়া সম্মিলনী হবে….মৃতদের স্মরণ করা হবে”

মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘বেশি অভিযোগ অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে। অনেক আবর্জনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছি, পরিষ্কার করতে সময় লাগবে। এই লোকগুলো কে, দেখতে হবে। ভিতরে দুর্ঘটনা ঘটলে মৃতের সংখ্যা কোথায় যেত তার ঠিক নেই। দড়িটা হাতে ধরা ছিল, নিজেরা বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দড়ি ফেলে চলে গিয়েছিল। আয়োজকদের ত্রুটি আছে, প্যান্ডেলেও ত্রুটি আছে। পুলিশেরও উচিত ছিল ত্রুটি শুধরে দেওয়া। যে কমিটি করা হয়েছে, তাতে কলকাতা পুলিশকে রাখা হয়নি। কমিটিতে রাখা হয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতরের এক জন আধিকারিককে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিবকে রাখা হয়েছে। মাথায় থাকবেন একজন কর্মরত বিচারপতি। ২০২৫-এ ২টো বড় দুর্ঘটনায় তাঁরা কী করেছে, আমরা দেখেছি, মানুষ দেখেছে।আমরি হাসপাতালে কী হয়েছিল, সবাই দেখেছে। কোনও মুখ্যমন্ত্রী সারারাত হাসপাতালে থাকছেন, এমন দেখেছেন কখনও? সিপিএম, তৃণমূলের সময় কোনও কমিটির রিপোর্ট সামনে আসেনি। ২৬ অক্টোবর মিলন মেলায় বিজয়া সম্মিলনী হবে, তাতে আড়ম্বড় বাদ দেওয়া হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে, মৃতদের স্মরণ করা হবে। পুজো কমিটিগুলিকে এখনই বলব, আগামী বছর আপনারা শিক্ষা নিন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *