কলকাতা: চোরবাগানে মৃত্যুমিছিল! শিক্ষা নিয়ে ৩ পুজো কমিটিকে নোটিস দমকলের।
অগ্নিনিরাপত্তায় গাফিলতির জেরে ৩ পুজো কমিটিকে নোটিস পাঠাল দমকল। সেই তিনটিই কলকাতার বড় ও নামী পুজো। কোন তিন পুজো? চেতলা অগ্রণী, বালিগঞ্জ কালচারাল ও ত্রিধারা সম্মিলনী। এই তিন পুজোকে দমকলের নোটিস।
জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দলের পরিদর্শনে ধরা পড়েছে একাধিক ত্রুটি। চেতলা অগ্রণীর ক্ষেত্রে মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো, ফ্যান ও AC-র অভাব আছে বলে জানিয়েছে দমকল। চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপ লাগোয়া এলাকায় বেআইনি অস্থায়ী কাঠামো রয়েছে, LPG সিলিন্ডার রাখা রয়েছে বলে দেখেছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পরিদর্শন দল। চেতলা অগ্রণীকে অস্থায়ী কাঠামো অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বালিগঞ্জ কালচারালের মণ্ডপের ভিতরে কম আলো রয়েছে। আপদকালীন পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের বেরোতে সমস্যা হতে পারে বলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দলের পরিদর্শনে উঠে এসেছে। বালিগঞ্জ কালচারালের এন্ট্রি, এক্সিট গেট ও লাগোয়া এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রিধারা সম্মিলনীর অন্দরসজ্জায় বিপুল পরিমাণ অতিদাহ্য সামগ্রীর ব্যবহার হয়েছে বলে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দলের পরিদর্শনের পর জানানো হয়েছে। ত্রিধারা সম্মিলনীতে কোনও কারণে আগুন লাগলে বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি হয়ে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে। ত্রিধারায় অবিলম্বে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগের সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৮ অক্টোবরের মধ্যে ৩ পুজো কমিটিকে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চোরবাগান-বিপর্যয়ের কারণ কী?
বৃষ্টির জন্য চোরবাগানের মণ্ডপ থেকে বেরোতে পারছিলেন না দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে আবার এন্ট্রি গেট দিয়ে হুড়মুড়িয়ে প্যান্ডেলে ঢুকে পড়েন আরও দর্শনার্থী। এক্সিট গেটের রাস্তা সামনের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছিল। বাইরে বৃষ্টি পড়ায় এক্সিট গেটের মুখে অপেক্ষা করছিলেন অনেকে।
সেই সময়ে মাইকে হঠাৎ পুজো উদ্যোক্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘোষণায় আতঙ্ক। “প্যান্ডেলের অবস্থা খুব খারাপ, আপনারা বেরিয়ে যান, এখানে দাঁড়াবেন না। প্যান্ডেল যখন তখন পড়ে যেতে পারে, আপনারা বেরিয়ে যান। প্যান্ডেল ভেঙে গেলে পদপিষ্ট হয়ে যাবেন,” মাইকে এই ঘোষণা শুনে মণ্ডপ থেকে বেরনোর জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এক্সিট গেটের মুখ সরু থাকায় সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে যান অনেকে। বন্ধ ছিল মণ্ডপের এমারজেন্সি এক্সিট গেটও।
বিপর্যয়ে প্রশ্নের পাহাড়
কলকাতা পুলিশ, দমকল, পুরসভা, CESC অন্তত দু’বার মণ্ডপ পরিদর্শন করে। তারপরেও মণ্ডপে ব্যবস্থাপনার খামতি কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল প্রশাসনের? নাকি নজর পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়ায় থেকে গেছিল গাফিলতি? উদ্যোক্তাদের সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠতা থাকাতেই কি কড়া ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ? শুক্রবারও চোরবাগানের পুজোয় প্রবল ভিড়ের চাপে ব্যাপক হুড়োহুড়ি হয়। শুক্রবার ব্যবস্থা নিলে তো শনিবারের ঘটনা এড়ানো যেত। তারপরেও কেন ব্যবস্থা নিল না পুলিশ প্রশাসন?