কলকাতা: চোরবাগানের ঘটনার ভয়াবহতা শুনলে, এখনও শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ! কীভাবে, কার গাফিলতিতে চলে গেল ১৯টা তাজা প্রাণ.. এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। চোরবাগানে পদপৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল? কতটা ভয়াবহ ছিল সেই ঘটনা? অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। এই অভিজ্ঞতা হয়তো তিনি ভুলতে পারবেন না আজীবন। এখনও যথেষ্ট আতঙ্কিত বিক্রম প্রসাদ। এবিপি আনন্দকে জানালেন, ঠিক কী ঘটেছিল দুর্গাপুজোর সেই অভিশপ্ত সন্ধেতে।

চোরবাগানে পদপৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এক প্রত্যক্ষদর্শীর

চোরবাগানের ঘটনার সেই প্রত্যক্ষদর্শী বিক্রম প্রসাদ বলছেন, ‘সাতটা কুড়ি-পঁচিশ বাজে তখন। আমার এক বন্ধু এসে বলল, মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, মজা করছে। কিন্তু প্রচুর মানুষের চিৎকারের আওয়াজ কানে আসছিল। সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপে গেলাম, দেখলাম একটার ওপর একটা দেহ পড়ে রয়েছে। একের পর এক, যেন সিঁড়ির মতো। ভয়াবহ দৃশ্য। মানুষকে বাঁচাতে এক্সিট গেট দিয়েও ভিতরে ঢুকতে পারিনি। মানুষের দেহ পড়ে পড়ে গেট আটকে গিয়েছে। আমরা চেষ্টা করছিলাম কতজন মানুষকে কত তাড়াতাড়ি বের করে আনা যায়। বের করার সময়েই বুঝেছিলাম, কিছু দেহে প্রাণ নেই। একজনের দেহ তুলে এনে গাছের তলায় শোয়ালাম। একবার বুকে চাপ দিতে দেখলাম, নাক দিয়ে রক্ত বেরিয়ে গেল। আমি ভয়ে ছেড়ে দিয়েছি। একজন এগিয়ে এসে বললেন, তিনি চিকিৎসক। তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য বললাম। নাড়ি পরীক্ষা করে বললেন, ‘মারা গিয়েছে।’ সিভিক ভলেন্টিয়ার, পুলিশ কী কাজ করছে, জানি না। তবে অনেকেই ছিল, আমার আসলে সেদিকে অত নজর ছিল না। চেষ্টা করছিলাম, কতজন মানুষকে বাঁচাতে পারি, তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে পাঠাতে পারি।’

দুর্গাপুজোর অভিশপ্ত সেই সন্ধ্যায় কী ঘটেছিল চোরবাগানে?

প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে ওই সময়ে মণ্ডপে যাঁরা যাঁরা ছিলেন, তাঁরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জন্য চোরবাগানের মণ্ডপ থেকে বেরোতে পারছিলেন না দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে আবার এন্ট্রি গেট দিয়ে হুড়মুড়িয়ে প্যান্ডেলে ঢুকে পড়েন আরও দর্শনার্থী। এক্সিট গেটের রাস্তা সামনের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছিল, এর ফলে একটা সময়ে খুব কম মানুষই গেট দিয়ে বেরোতে পারছিলেন। বাইরে বৃষ্টি পড়ায় এক্সিট গেটের মুখে অপেক্ষা করছিলেন অনেকেই। আর ঠিক সেই সময়ে মাইকে হঠাৎ পুজো উদ্যোক্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘোষণায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে। প্যান্ডেলের মধ্যে ঘোষণা করা হয়, ‘প্যান্ডেলের অবস্থা খুব খারাপ, আপনারা বেরিয়ে যান, এখানে দাঁড়াবেন না। প্যান্ডেল যখন তখন পড়ে যেতে পারে, আপনারা বেরিয়ে যান। প্যান্ডেল ভেঙে গেলে পদপিষ্ট হয়ে যাবেন। প্লিজ এখানে দাঁড়াবেন না, বেরিয়ে যান.. বেরিয়ে যান..’ মাইকে এই ঘোষণা শুনে মণ্ডপ থেকে বেরনোর জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায় দর্শকদের মধ্যেই। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বেরনোর গেটে পৌঁছতেই। মণ্ডপের ভিতর এবং বেরনোর রাস্তা যথেষ্ট প্রশস্ত ছিল না। এক্সিট গেটের মুখ সরু থাকায় সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে যান অনেকে। 

 

আরও পড়ুন: Durga Puja 2026: অষ্টমী পুজো ও সন্ধিপুজোর সময় দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, কড়া পদক্ষেপ নিল দক্ষিণ কলকাতার বড় ক্লাব

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *