বারুইপুর: ফের শিরোনামে বারুইপুর। তবে এবার রাজনৈতিক কোন্দলের জন্য। বিজেপি বনাম বিজেপির ‘দ্বন্দ্বে’ বারুইপুরে খুন! তৃণমূল করতেন যারা, তারাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, আর সেখানেই প্রতিবাদ করেছিলেন সেই বিজেপি কর্মী। এরপরই রোষের মুখে পড়েন তিনি। এরপর স্ত্রীয়ের সামনেই কুপিয়ে খুন করা হয়েছে সেই বিজেপি কর্মীকে, এমনই অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই নাকি বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন নিহত বাপি প্রামাণিক। বিজেপি করার জন্য ঘরছাড়াও থাকতে হয়েছিল। কিন্তু যাঁদের অত্যাচারের থেকে বাঁচতে ঘরছাড়া ছিলেন, তাঁরাই এখন বিজেপি হয়ে গিয়েছে, সেই প্রতিবাদ করাতেই বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে পরিবার। নিহত বিজেপি কর্মীর স্ত্রী পুতুল প্রামাণিক বলছেন, ‘আজ তিনমাস হল ঘরে এল। আর তিনমাসের মধ্য়েই ওকে শেষ করে দিল। তৃণমূলের লোক ছিল, তারাই বিজেপি হয়ে গিয়েছে এখন। ফোন করেছিল আমার স্বামীকে। খানিকটা দূরে গেলে ওরা সবাই তখন ওকে ধরে নিল। ওর শরীরে কোপ মেরেছে, ও পড়ে যাওয়ার পর আমি ছুটে গেছিলাম।’
নিহত বিজেপি কর্মীর মেয়ে বলছেন, ‘বাবা সিপিএম করত আগে। বিজেপি এল এরপর। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে বাবাকে খুব মারধর করেছিল। বাবা এরপর এখান থেকে চলে যায় এখান থেকে। মা-কেও মারধর করেছিল। আমরা তখন ছোট ছোট। ১৮ বছর ধরে ঘরছাড়া ছিল বাবা। মাথায় মেরেছিল বাবাকে। বাবা পড়ে যাওয়ার পর রড দিয়ে, শাবল দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলা হয় বাবাকে।’
খুনে নাম জড়িয়েছে এলাকারই বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডল-সহ কয়েকজনের। পরিবারের দাবি, তৃণমূলের নেতা কর্মীদের দলে নেওয়ার আপত্তি করেছিলেন বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক। তার জেরেই এই পরিণতি। পুতুল প্রামাণিক আরও বলেছেন, ‘আমার স্বামীকে টাকার অফার দিয়েছিল। অনেক টাকা। এক-দেড় লক্ষ টাকা। বলেছিল, তুই টাকা নিবি। ও বলে আমি ১ টাকা নেব না।’
পরিবারের দাবি, রবিবার রাত ১০টা নাগাদ ফোন আসে বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিককের কাছে। কাউকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরোন তিনি। সঙ্গে যান স্ত্রীও। পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে স্থানীয় একটি মন্দির কমিটি তৈরিকে কেন্দ্র করে ২ গোষ্ঠীর মধ্যে সমস্যা চলছিল। বাপি মণ্ডলকে তাঁর স্ত্রীয়ের সামনেই কোপানো হয়।
নিহত বিজেপি কর্মীর মেয়ে আরও জানিয়েছেন, ‘তৃণমূলের ছেলেগুলো সবাই এসে বাবাকে ঘিরে ধরেছে। এখন ওরা বিজেপিতেই ঢুকে গেছে তো। সবাই এসে বাবাকে ঘিরে ধরেছে। ধরে পিছন দিক দিয়ে এসে চাপড় দিয়ে না কী দিয়ে মেরেছে মাথায়। বাবা ওখানেই পড়ে গেছে। তারপরে রড দিয়ে শাবল দিয়ে বাবার পিছনে মাথার এই সবগুলো মেরেছে। এগুলো সব কুপিয়েছে। মা বলেছে, সুজনের গলা আমি পেয়েছি।’
এদিন, অভিযুক্ত বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য সুজন মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে তালা ঝুলছে।