কলকাতা : বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগকে ঘিরে তপ্ত রাজ্য় রাজনীতি। রবিবার ভবানীপুর থানায় প্রায় দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্য়ায় ও প্রদীপ প্রসাদকে। সেখান থেকে বেরতেই তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে থানার বাইরে জমায়েতের একাংশ খেকে ওঠে স্লোগান। পাল্টা স্লোগান দেন কংগ্রেস কর্মীরাও। মধ্য়প্রদেশের বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ঘটনায় ছবি পোড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
রবিবার আরও দুই কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ প্রসাদকে ডেকে পাঠিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করল ভবানীপুর থানার পুলিশ। বাইরে ছিল জমায়েত। কংগ্রেস অনুগামীদের পাশাপাশি থানার বাইরে জড়ো হয়েছিলেন আরও অনেকে। আর থানা থেকে বের হওয়ার পরেই দুই কংগ্রেস নেতাকে উদ্দেশ্য করে জমায়েতের একাংশ খেকে ওঠে স্লোগান। পাল্টা স্লোগান দেন কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরাও। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীদের হাতে কোনও দলের পতাকা না থাকলেও, কংগ্রেসের দাবি, তারা সকলেই শাসকদল বিজেপির কর্মী।
প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার মর্মান্তিক পরিণতি, বাইকে করে দেহ নিয়ে পালানোর সময় গ্রেফতার অভিযুক্ত
কয়েকদিন পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি রাজ্যে এসে, দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে নিদান দিয়ে গিয়েছেন মধ্য়প্রদেশের বাগেশ্বর বাবা। এই নিয়ে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে, ভবানীপুর, মুচিপাড়া-সহ কলকাতা ও জেলার একাধিক থানায় অভিযোগ জানায় কংগ্রেস। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এরপরই মুখ্য়মন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হয় তদন্ত। দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতারের পর এদিন ভবানীপুর থানায় তলব করা হয়েছিল আশুতোষ চট্টোপাধ্য়ায় ও প্রদীপ প্রসাদকে।
প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘৮ কোটি বাঙালি। তাঁদের যাঁরা অপমান করলেন, তাঁদের খাদ্য়াভাসকে অপমান করলেন, দুর্গাপুজোকে অপমান করলেন, এই অন্য়ায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়ব। যাঁরা (ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী) এই অন্য়ায়টা করল, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্য়বস্থা হল না।’ আরেক কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ বলছেন, ‘গ্রেফতার করুক আমাদের কোনও আপত্তি নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেখছে এই বিজেপি সরকারের মুখ ও মুখোশ দুটো আলাদা হয়ে গেছে। সাড়ে ৮ কোটি বাঙালির হয়ে বিড়ালের গলায় ঘণ্টি আমরা বেঁধেছি। আমাদের কর্মকাণ্ডে কোনও রকম অনুশোচনা নেই।’ পাল্টা জবাব এসেছে বিজেপির তরফেও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘কোনও সাধুসন্ত মহাত্মার ছবি পোড়ানো উচিত নয়। একজন একটা মন্তব্য় করতেই পারেন। সেটারও প্রতিবাদের ভাষা আছে। আমাদের সমাজে, আমাদের দেশে সন্ন্য়াসীদের… একটা নির্দিষ্ট আসন আছে।’