কলকাতা : লক্ষ্য, যোগ্য মহিলাদের কাছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যে সমানে ঝাড়াই-বাছাই চলছে রাজ্য সরকারের তরফে। যাতে প্রকৃত প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যায়। তারপরেও নানা ‘নিয়ম-কানুনে’ অনেকে বাদ চলে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন জায়গায়। সেক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকায় নিয়মটা অনেকটা শিথিল করে প্রকৃত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে গতকাল ধনধান্য অডিটোরিয়ামের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রথম জুন মাসে আমরা ২৮ লক্ষ দিয়েছি। বহু মহিলাই পাননি । সংখ্যা কম ছিল। জুলাই মাসে আমরা ১ কোটি ১৯ লক্ষ দিয়েছি। তাতেও অনেকে বাদ চলে গিয়েছিলেন। বা, অনেকে নিয়ম-কানুনের মধ্যে আটকে গেছিলেন। এবং, অ্যাকাউন্ট নম্বর ভুল ছিল। আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক ছিল না। তাই এবারে আমরা অনেকটা ত্রুটিমুক্ত হয়ে, আধার-ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক-সহ আমরা বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাতে আইন বা নিয়ম অনেক শিথিল করে দিয়েছি। যাতে অধিকাংশ মহিলাকে আমরা দিতে পারি। সেই কারণে এবারে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা উপযুক্ত বিবেচিত হয়েছেন।” Suvendu Adhikari on Annapurna Yojana
এই সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৭ তারিখ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে। রাজ্যে এবারের অনুমোদিত তালিকা ১ কোটি ৪৫ লক্ষ। তিনি বলেন, “যারা মনে করেন অনুপযুক্ত লোকে অর্থ পেয়েছেন, বা যারা মনে করেন উপযুক্ত মহিলা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য ২০ তারিখ থেকে একটি পোর্টাল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিশু ও নারীকল্যাণ দফতর খুলবে। যেখানে আপনি আবেদন ও অভিযোগ দুই-ই করতে পারবেন। ১ জুন থেকে যারা ১০ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করেছিলেন, তাঁদেরই শুধুমাত্র ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হয়েছে। ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত যারা আবেদন করেছেন, যদিও সংখ্যা অনেক কম, কারণ মোট এক কোটি ৮০ লক্ষ আবেদন করেছিলেন। তারমধ্যে ১০ জুলাই পর্যন্ত ১ কোটি ৬৬ লক্ষ মহিলা আবেদন করেছিলেন।” তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার তাঁদের মধ্যে এক কোটি ৪৫ লক্ষকে অনুমোদন দিয়েছে, যার টাকা গতকাল (১৭ তারিখ) থেকে ঢোকানোর প্রক্রিয়া চলছে। যেটা ২০ তারিখ দুপুরের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।”
তাঁর সংযোজন, “এর বাইরে যারা থাকলেন, অর্থাৎ আরও ১৪ লক্ষ আবেদনকারী যারা ১০ জুলাইয়ের পর আবেদন করেছেন, তাঁদের আরও একমাস ধরে ভেরিফিকেশন করে পরবর্তী মাসের তালিকায় উপযুক্ত মহিলারা আসবেন।”