কলকাতা: বাড়িতে তল্লাশি, দফায় দফায় তলব, জিজ্ঞাসাবাদ করছিল ED। বুধবার ED দফতরে হাজিরাও দিতে এসেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। হাজিরা দেওয়ার পর  CGO কমপ্লেক্সে থেকে বেরোতেই গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। তৃণমূল আমলে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। রাজ্যে পালবদলের পর কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তও শুরু হয়। কিন্তু বুধবার, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার পেশ করা হবে আদালতে।  

ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ? কীভাবে পুজো দেখার নামে টাকা তুলতেন ?

৮ জুন বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক অভিযোগকারী। অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে, অভিযুক্তরা ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে সংস্থার মাধ্যমে মানুষের কাছে ৪ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি করেছিল। এই টিকিটগুলো ছিল কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত দুর্গা মণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য।’মাস-আর্ট’ এই মণ্ডপগুলোকে নির্বাচন করলেও, তারা মিথ্যা দাবি করেছিল যে এগুলো ইউনেস্কো কর্তৃক নির্বাচিত। ২০২৫ সালে সংস্থাটি একটি ‘ডোনার পাস’ প্রকাশ করে। যেখানে সুস্পষ্টভাবে টিকিটের দাম উল্লেখ করা ছিল এবং শুরু থেকেই ইউনেস্কোর সাথে পার্টনারশিপের মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘প্রিভিউ শো’-এর মাধ্য়মে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলগুলি শুধুমাত্র টিকিট কেনা দর্শকদের জন্যই সংরক্ষিত করা হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। দুর্গাপুজো চলাকালীন, যারা ওই নির্দিষ্ট দাম দিয়ে টিকিট কিনতে পারেনি, অভিযুক্তরা তাদের প্যান্ডেলে ঢুকতে বাধা দেন এবং এই কারণে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে বিবাদ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তিনি প্রচুর টিকিট বিক্রি করেছিলেন দুর্গাপুজো দেখার জন্য। যে টিকিটগুলো বিক্রি করা হয়েছিল সেগুলো সব উনিস্কোর নাম ভাঙিয়ে। অর্থাৎ, তিনি উনিস্কোর নাম ব্যবহার করে, কলকাতা শহরের বড় পুজোগুলোর মধ্যে ২৪টা পুজোকে বেছে নিয়ে, এই পুজোগুলো যারা আগে দেখতে চান তাঁরা টিকিট কেটে দেখতে পারেন। অন্যথায় এই সব পুজো আগে দেখা যাবে না। 

সম্প্রতি, এনিয়ে ECIR দায়ের করে তদন্তে নামে ED। গত মাসের ২৯ তারিখে ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, আত্মীয়দের ঠিকানা-সহ একযোগে রাজ্য়ের ১৫টি জায়গায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দফায় দফায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইন্দ্রনীল সেনকে। আর এনিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের জারি করা প্রেস বিবৃতিতে উঠে আসে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নাম। 

কত টাকায় বিক্রি হয়েছে টিকিট ?

এই টিকিটের মূল্য ছিল ১৮০০ থেকে ৪৫০০টাকা। আবার কোনও কোনও টিকিট-এর মূল্য ছিল ১২,০০০ টাকা। এই মূল্যের টিকিট কেটে দর্শকদের পুজো প্যান্ডেলে ঢুকতে সুযোগ করে দেওয়া হত, অন্য কোনও সাধারণ মানুষকে পুজোর মুখে ৪ দিন এই সব প্যান্ডেলে ঢুকতে দেওয়া হত না। রীতিমতো একটি সংস্থা খুলে এই ধরণের কাজ করতেন তিনি।  

কী জানান অভিযোগকারী ব্যক্তি ?

জয়দীপ মুখোপাধ্য়ায় নামে অভিযোগকারী সেই ব্যক্তি জানান, ”অভিযোগ করেছিলাম যে, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ‘মাস আর্ট’ যে কার্টেলটা চালিয়েছিল, যে ইউনেস্কো নাকি কলকাতার ৮০০-৯০০ দুর্গাপুজোর মধ্যে ২৪টা পুজোকে বেছে নিয়েছে, এই ২৪টা পুজোতে প্রথম ৪ দিন মানুষকে টিকিট কেটে এই ২৪টা প্যান্ডেলে ঢুকতে হবে। বাইরের অন্য কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *