কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যি হল। ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। সকালের দিকটা কলকাতা সহ পার্শবর্তী এলাকায় রোদ দেখা দিলেও বেলা বাড়তেই ক্রমশ মেঘে ঢেকে গেছে আকাশ। পশ্চিমবঙ্গেও ‘অর্ণব’-এর প্রভাব দেখা দেবে জানিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী, অর্ণবের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। কিছু কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির বৃষ্টির পূর্বাভাস। তবে কোন কোন জেলা বিপদের মুখে? সরাসরি প্রভাব কোন কোন জায়গায় পড়বে ? বিস্তারিত তথ্য জানালেন আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস। 

কতটা প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গে ?

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ গত ৬ ঘণ্টায় ২০ কিমি বেগে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে আজ পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বিশাখাপত্তনম থেকে ১৭০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে। কাকিনাড়া থেকে ১৯০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। মঙ্গলবার সন্ধ্যে থেকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নেবে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৫০-১৬০ কিমি। সর্বোচ্চ দমকা হওয়া বইবে ঘণ্টায় ১৮০ কিমি। বুধবার সকালে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা। অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাটলা উপকূলের কাছে ‘অর্ণব’-এর ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা। ২৮ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে বাপতলা ও বিশাখাপত্তনমের ইয়ানামের কাছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করবে এই অতি শক্তিশালী ও প্রবল ঘূর্ণিঝড়। ঘণ্টায় ১৫০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে। তারপর ঝড়টি দুর্বল হয়ে ২৯ অক্টোবর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে।

কবে থেকে ও কোন কোন জেলায় প্রভাব পড়বে ?

বাংলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর। উপকূলবর্তী এলাকায় ২৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও সমুদ্র উত্তাল থেকে খুব উত্তাল থাকবে। মৎস্যজীবীদের ২৯ সে অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়ায় কয়েক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ৮ অক্টোবর থেকে প্রায় সব জেলাতে বৃষ্ হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। ৪০-৫০ কিমি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ২৯ অক্টোবর পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানে বেশিরভাগ জায়গায় বৃষ্টি ও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অর্ণবের প্রভাবে উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের আশঙ্কা। ২৮ অক্টোবর,সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। ২৯ ও ৩০ অক্টোবর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হবে। ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। পার্বত্য এলাকায় ধসের আশঙ্কার কথাও জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর।

কাকিনাডা জেলার জেলা প্রশাসক হরেন্দ্র প্রসাদ কী জানিয়েছেন ?

কাকিনাডা জেলার জেলা প্রশাসক হরেন্দ্র প্রসাদ বলেছেন, “আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।’ জেলার বিভিন্ন অংশ থেকে আমার কাছে খবর এসেছে যে গত কয়েক ঘণ্টায় বৃষ্টির তীব্রতাও বেড়েছে। আমরা আশা করছি ঘূর্ণিঝড়টি কাকিনাডা এবং নরসাপুরম-এর মধ্যে কোথাও রাত ৯টা থেকে মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানবে।”

IMD ভুবনেশ্বরের ডিরেক্টর কী জানাচ্ছেন ?

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব প্রসঙ্গে IMD ভুবনেশ্বরের ডিরেক্টর মনোরমা মোহান্তি বলেন, ”এটি গোপালপুর থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। খুব সম্ভবত এটি ২৭ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকবে। এরপর এটি বাপাতলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যে অন্ধ্র উপকূল জুড়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত, ঘূর্ণিঝড়টি এখানেই অবস্থান করছে এবং পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ছত্তিশগড়ের দিকে যাবে।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *