কলকাতা: বিহার থেকে কলকাতায় এসেছিলেন ঠাকুর দেখতে। আর সেই ঠাকুর দেখতে এসে বাড়ি ফের হল অভিষেক শ্রীবস্তব ও তাঁর পুত্র আয়াংস শ্রীবাস্তবের। কোনও রকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তাঁদের আত্মীয় পানিহাটির বাসিন্দা রাজেশ শ্রীবাস্তব। সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, সেটাই জানালেন রাজেশ।

আরও পড়ুন: অভিযোগের সুরাহা করতে ব্যাঙ্ক যদি দেরি করে, আপনি পেতে পারেন দৈনিক ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ

রাজেশ বলেন, “গেলাম যখন তখন বৃষ্টি শুরু হল। তখন আমরা সাইড দিয়ে প্যান্ডেলের ভিতরে ঢুকলাম। তারপর যখন বেরোচ্ছিলাম, তখন ভিড় ছিল। ভিড়ের সামনের দিকেই আমরা পড়ে গিয়েছিলাম। তার আগে ৭-৮ জন পড়ে গিয়েছিল। তার উপর আমরা পড়েছিলাম। আর পিছন থেকে লোকজন ধাক্কা দিচ্ছিল। ধাক্কা খেয়েই আমরা পড়ে গেলাম। আরও ৫ মিনিট আটকে থাকলে হয়তো আমিও বাঁচতাম না। আমার দমবন্ধ হয়ে আসছিল। আমি এখানে পড়েছি, নিজের পরিবারকে বাঁচাতে ব্যস্ত। আর ও নিজের পরিবারকে নিয়ে পড়ে গিয়েছিল। বাচ্চাটা পড়ে গিয়েছিল। ওকে নিয়ে আর শ্যালিকা ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিল। আর ওর স্বামীকে আমি দেখলাম। তারপরই হৃৎস্পন্দন চালু রাখতে পাম্প করছিলাম। সেই সময় খেয়াল করেছি ওর বুক ওঠানামা করছে। চোখ যদিও খোলেনি। বেঁহুশ হয়ে পড়ে ছিল।”

পুজো কমিটির দোষ কতটা? রাজেশ বলছেন, “পুজো কমিটির অনেক দোষ আছে। যে সব ভলান্টিয়াররা ছিল, তারা ওখানেই ছিল না। যখনই জোরে বৃষ্টি এল, বাইরে থেকে লোক ভিতরে ঢুকে পড়ল। আর এদিকে পিছন থেকেও ঠেলাঠেলি হচ্ছিল। আর আমাদের সামনে অন্তত ১০ জন পড়ে গিয়েছেন। কম করে ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট এমন অবস্থা ছিল। আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। কেউ ছিল না। পুলিশ অন্তত ৪৫ মিনিট পরে এল। পুলিশ এলেও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। এটা ভাল হল না। ভিড় হচ্ছে যখন, আলোর ব্যবস্থা তো করতে হবে আপনাদের। দোষ তো আমার উপর এল, তাই না? আমি নিয়ে গিয়েছিলাম। দোষ তো আমারই।”

স্বামী ও পুত্রকে হারিয়ে হাউহাউ করে কাঁদছেন অভিষেকের স্ত্রী নিভা কুমারী। তিনি বলেন, “আমার ছেলে চলে গেল।  আমার ছেলে, আমার স্বামী- দু’জনই। দুই দিক থেকেই ধাক্কাধাক্কি হচ্ছিল। আমি ওর মধ্যে পড়ে যাই। আমার বাচ্চা চাপা পড়ে যায়। ওর বাবা ওকে ওঠাতে গেল। ও চাপা পড়ে গেল।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *