কলকাতা: ঠাকুর দেখতে গিয়ে আর ফেরা হল না। প্যান্ডেল চত্বরেই মৃত্যুর কোলে ঢেলে পড়লেন ১৯ জন। এখনও হাসপাতালে যুঝছেন অনেকে। দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে এমন মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনও ঘটেছে বলে স্মরণ করা যায় না। পালাবদলের পর এমন ঘটবায় স্বভাবতই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনায় রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। এই গোটা ঘটনার জন্য পুজো কমিটির রাজনীতিকরণকেও দুষেছেন তিনি। (Shatarup Ghosh on Chorbagan Stampede)
শনিবার রাতে চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন অনেকে। সেই নিয়ে রাজনীতি না করার কথা বলছেন বিজেপি নেতানেত্রীরা। যদিও গোটা ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শতরূপ। এবিপি আনন্দের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলছেন থিমের ত্রুটি, আয়োজকদের ত্রুটি। এত ত্রুটি যেখানে, আপনি নিজে কেন সেই ত্রুটিযুক্ত পুজোর উদ্বোধন করলেন? তৃতীয়ার দিন ওই পুজোকে কেন ‘দেবী দুর্গা সম্মান’ দিলেন রাজ্য সরকারের তরফে? আপনি শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছেন তো! গতকাল দেখলাম ফেসবুক লাইভে বলছেন, ‘এটা নিয়ে যারা রাজনীতি করছে…’৪ মে সরকার পাল্টানোর পর পুজো কমিটির মাথা পাল্টে যাওয়া, কাঁথি থেকে এসে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর উত্তর কলকাতার পুজোর পৃষ্ঠপোষক হয়ে যাওয়া, বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝার চেয়ারম্যান হয়ে যাওয়া, বিজেপি-র জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষের চিফ অ্যাডভাইজ়ার হয়ে যাওয়া, বেহালার বিজেপি নেতা প্রীতম সরকারের গিরীশ পার্কের ওখানে কালচারাল সেক্রেটারি হয়ে যাওয়া…বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরনোর পর একটি পুজো কমিটিতে বিজেপি নেতাদের মাথা হয়ে যাওয়া…এটা রাজনীতি নয়ত কী? রাজনীতি ছাড়া কোন পথে হয়েছে এটা?” (Chorbagan Stampede Incident)
আরও পড়ুন: ফেটে যায় ফুসফুস, থেঁতলে যায় লিভার, চোরবাগানে এত মৃত্যু কেন? এল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
চোরবাগানের ঘটনায় যে কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শতরূপ। তাঁর বক্তব্য, “আজ যে গ্রেফতারির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি রাজনৈতিক গ্রেফতারি নয়ত কী? বামফ্রন্টের আমলে যখন ‘শিবালিক অ্যাপার্টমেন্ট’ ভেঙে পড়েছিল, গ্রেফতার হয়েছিলেন বিল্ডার। তৃণমূলের সঙ্গে হাজার লড়াই হয়েছে আমাদের। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে যখন আমরি হাসপাতালে আগুন লাগে, হাসপাতালে মালিককে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার পর যারা গ্রেফতার হচ্ছে, তারা কারা? পাড়ার কতগুলো কুঁচো ভলান্টিয়ার, পুজো কমিটির নীচের তলার লোক। মাথায় বসে থাকা বিজেপি নেতারা, যাঁরা ঘটনার আগের মুহূর্তেও হর্তাকর্তা-বিধাতা হয়ে বসে ছিলেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।”
তাহলে কি গ্রেফতারি আসলে আইওয়াশ? শতরূপ বলেন, “তা নয়ত কী? SIT হোক, আর যাই হোক, বিজেপি নেতারা, যারা পুজোর নেতা, যাদের গলা জড়িয়ে ধরেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তারা কেউ গ্রেফতার হবে না। কারণ বিজেপি নেতা বলেই ওরা পুজো দখল করেছে। আমরা গত সাত-আট বছর ধরে শুনছিলান, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলায় নাকি জিহাদি শাসন চলছে। বাংলায় নাকি দুর্গাপুজো করা যেত না। বিজেপি এসে দেখিয়ে দেবে, সনাতনী সরকারের আমলে কেমন দুর্গাপুজো হয়। কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে ছেড়ে দাও, গত ৩০০ বছরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র থেকে ব্রিটিশ আমলে যা হয়নি, বাঙালির দুর্গাপুজোর ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটল, যেখানে বাড়ি থেকে আনন্দ করে পুজো দেখতে গিয়ে এতজনকে মরতে হল, রক্তাক্ত হতে হল। বিজেপি আসার পর দুর্গাপুজোয় রক্তের ছিটে লাগল। সামাজিক পরিসরগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার কথা বলেছিলাম আমরা। লাভটা কী হল? তাহলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন কী হল? মানুষ তৃণমূলের বিকল্প চেয়েছিল, পেল জেরক্স কপি। এত বছরে যা হয়নি, বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারী আসার পর দুর্গাপুজোয় রক্তের ছিটে লাগল।”