কলকাতা: চোরবাগানে মহাবিপর্যয়। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আর এই ঘটনা ঘটার আগের মুহূর্তের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে প্যান্ডেল যখন তখন পড়ে যেতে পারে। গতকালের এই ঘটনার পিছনে একাধিক কারণের মধ্যে এই ঘোষণার বিষয়টা অন্যতম একটা কারণ। কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়। গতকাল চোরবাগানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পিছনে রয়েছে বিভিন্ন স্তরের গাফিলতি।
আরও পড়ুন: ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা, খতিয়ে দেখতে এবার টালা প্রত্যয়ে বিশেষ কমিটি, কী নির্দেশিকা এল?
গতকালের ঘটনার পিছনে কিছুটা অনুঘটকের কাজ করেছে এই ভাইরাল হওয়া ভিডিওটা। কলকাতা পুলিশ দুর্গাপুজোতে দীর্ঘদিন ধরেই ক্রাউড ম্যানেজমেন্টের কাজ করে আসছে। এটা আজকের বিষয় নয়। প্রতিবছর কলকাতা পুলিশের কাছে এটাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। মোটামুটি চতুর্থী থেকে দশমী, প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে এই কাজ করতে হয় পুলিশকে। আর তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় অন্তত ২ মাস আগে থেকে। আর এই বিষয়টাকে নিয়ে এতটাই ফোকসড থাকে পুলিশ, যে অন্যান্য যে সব এজেন্সি এর মধ্যে থাকে, তাদের সঙ্গেও দারুণ সমন্বয় থাকে। কিন্তু এবারে কী এমন ঘটলো, যে ১৯ জনের প্রাণ গেল?
জানা গিয়েছে, চোরবাগানের পুজোতে মূল সমস্যা ছিল বেরোনোর রাস্তায়। বলা হচ্ছে ঢোকার রাস্তার তুলনায় বেরোনোর রাস্তা বেশ ছোট ছিল। আর গতকাল বৃষ্টি হচ্ছিল। আর সেই কারণেই অনেকে মণ্ডপ থেকে বেরোতে পারছিলেন না। অন্যদিকে, বৃষ্টির কারণেই ঢোকার রাস্তা দিয়ে হুড়মুড়িয়ে প্যান্ডেলে ঢুকে পড়েন আরও দর্শনার্থী। এর ফলে মণ্ডপের মধ্যে অনেক মানুষ এক সঙ্গে ঢুকে পড়েন। আর তখনই মাইকে হঠাৎ পুজো উদ্যোক্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘোষণা শুরু হয়। ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
আরও পড়ুন: চোরবাগানে বিপর্যয়ের পর এবার আরও সতর্ক কলকাতা পুলিশ, জারি একগুচ্ছ নির্দেশিকা
আর বারবার “পদপিষ্ট হয়ে যেতে পারেন” ঘোষণাই কাল হয়। এর ফলে সকলে একসঙ্গে মণ্ডপ থেকে বেরোতে যান। আর সেখানে গিয়ে আটকে যান অনেকেই। আর হুড়োহুড়ির মধ্যে অনেকেই মাটিতে পড়ে যান। এর ফলেই পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। এমনকি এই সময় বন্ধ ছিল মণ্ডপের এমারজেন্সি এক্সিট গেটও।