কলকাতা: দুর্গাপুজোর শুরুতেই শহর হারাল ১৯ জন সহ-নাগরিককে। চোরবাগানের পুজোয় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা, পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ১৯ জন সাধারণ মানুষের। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? অপর্যাপ্ত পুলিশ কর্মীর অভাব! ছিল না ভলান্টিয়ারও। যেভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি। সেজন্যই ঘটে যায় এত বড় দুর্ঘটনা। প্রাণ গেল এতগুলো নিরীহ মানুষের। চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় এমনই অভিযোগ তুলছেন প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তবে পুলিশ না পারলেও, যাঁরা আগেভাগেই এই মণ্ডপ দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁরাও আশঙ্কা করেছিলেন, এই মণ্ডপে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। মণ্ডপের রাস্তা ছিল যথেষ্ট সংকীর্ণ, ভিড়ে চাপে যে কোনোরকম দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করেছিলেন সাধারণ মানুষ। সদ্য এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তৃতীয়ার দিন চোরবাগানের মণ্ডপ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, এক দর্শনার্থী। তাঁকে সেই ভিডিওতে একাধিকবার বলতে শোনা গিয়েছে যে, দর্শকের জন্য মণ্ডপে ঢোকা বেরনোর যে রাস্তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত সংকীর্ণ।
ভাইরাল ভিডিওতে কী আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এক দর্শনার্থী?
ভাইরাল ভিডিওতে ওই দর্শনার্থীকে বলতে শোনা গিয়েছে যে, দর্শকদের জন্য চোরবাগানের মণ্ডপে যে রাস্তা নির্ধারিত করা হয়েছে, তা খুবই সরু। তৃতীয়ার দিনই সেখানে ভিড় ছিল উপড়ে পড়া। রাস্তা ওপরে যেখান থেকে লাইন শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে জায়গা দিয়ে সাধারণ মানুষদের ঢোকানো হচ্ছিল এবং যতটা ঘুরিয়ে বের করা হচ্ছিল, তাতে বারে বারেই ধাক্কাধাক্কির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ব্যারিকেডের পরে বারে বারে দড়ি দিয়ে লাইন আটকানো হচ্ছিল, এমনটাই জানানো হয়েছে। ওই দর্শনার্থীকে ওই ভিডিওতে বলতে শোনা যায় যে, ‘তৃতীয়ার দিনেই এই অবস্থা, সপ্তমী, অষ্টমীতে তো মানুষ পদপিষ্ট হয়ে যাবে!’ পাশাপাশি ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা হয়েছে যে, VIP-দের জন্য যে বিশেষ জায়গা তৈরি করা হয়েছিল, তা প্রায় ফাঁকাই ছিল। কিন্তু যেভাবে সাধারণ মানুষদের মণ্ডপে ঢোকানো এবং বের করা হচ্ছিল, সেখানে যে কোনও সময় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, দর্শনার্থীদের সামনে থেকে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল তৃতীয়ার দিনেই। কিন্তু তারপরেও ঘটে গেল এই দুর্ঘটনা।’
গাফিলতি কার? এই প্রশ্নই এখন করছেন প্রত্যেকে।