ময়ূখঠাকুর চক্রবর্তী,  কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ চলছেই। সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর, মঙ্গলবার দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হল কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। বুধবার একই মামলায় তলব করা হয়েছে প্রাক্তন IPS অফিসার ও কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরের আরেক নেতা হুমায়ুন কবীরকে।  অবশেষে ৬ ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরলেন ডেরেক।

আরও পড়ুন, ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-র এই বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-সহ একাধিক মারাত্মক অভিযোগ, সময় দিল না CID

গত ২৭ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিসে ঢোকার সময় বাধার মুখে পড়েন পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকরা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, পুলিশকে ধাক্কা দেওয়ার ছবি সামনে আসে। ঘটনাস্থলে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও। এই ঘটনায় মোট তিনটি FIR হয়।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর-সহ একাধিক জনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়।  

ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নোটিস দিয়ে ৩১ অগাস্ট সোমবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজার হতে বলে পুলিশ। কিন্তু সেদিন হাজিরা না দিয়ে সময় চেয়ে নেন কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরের এই নেতা। সেদিনই তাঁর প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাড়িতে গিয়ে ফের নোটিস দিয়ে আসে শেক্সপিয়ার সরণি থানা। সেইমতো দোসরা সেপ্টেম্বর হাজিরা দেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। সেদিন তাঁকে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইতিমধ্যেই এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এরপর কলকাতা পুরসভার আধিকারিক সুদীপকুমার বসুর করা FIR-এর ভিত্তিতে, মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় ফের তলব করা হয় ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। সেইমতো এদিন সকাল ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ থানায় পৌঁছন কালীঘাট-তৃণমূল শিবিরের রাজ্যসভার সাংসদ।
 
পুলিশ সূত্রে দাবি, ২৭ অগাস্ট ঠিক কী হয়েছিল? কেন বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল? কেন পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের বাধা দেওয়া হল? কেউ কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা, এইসব প্রশ্নই এদিন জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁকে। গোটা জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করার পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েনের বয়ানও রেকর্ড করে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। এই একই মামলায় বুধবার সকালে তলব করা হয় ডেবরার প্রাক্তন বিধায়ক, প্রাক্তন IPS অফিসার হুমায়ুন কবীরকে।  



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *