কলকাতা: শহরের নামী রেস্তোরাঁর খাবারে বিষ, লাইসেন্স বাতিল করা হল কলকাতার ৪০ টি রেস্তোরাঁ। পচা বা ভেজাল খাবার খেলে ঠিক কতটা ভয়াবহ অবস্থা হতে, কী কী রোগ শরীরে বাসা বাধতে পারে, তা নিয়ে এবিপি আনন্দ-কে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিলেন চিকিৎসকরা।
খাবার ভেজাল থাকলে রান্না করে ফোটালেও ইনফেকশন যাবে না
চিকিৎসক (Doctor) শিবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মাছ-মাংস কিংবা সবজি, সেটা যদি পচা হয়, তাহলে সেটা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। পচা মানে কি, তার মধ্যে ব্যকটেরিয়া (Bacteria) থাকবে, নয় ফাংগাস থাকবে। এই ব্যাকটেরিয়া ফাংগাসগুলি, খাদ্যটা যখন তৈরি হবে, তখন তার মধ্যে রয়ে যাবে। স্যালাড বা এই জাতীয় খাবার যদি হয়, তাঁতে অনেক বেশি থাকবে। যদি জিনিসটাকে ফুটিয়ে রান্না করা হয়, তাহলে হয়তো জিনিসটার মাত্রা অনেক কম হবে। কিন্তু রয়ে তো যাবে। সম্ভাবনা তো প্রবল। এবং তার ফলে বিভিন্ন ধরণের ইনফেকশন হতে পারে। টাইফয়েড থেকে জন্ডিশ থেকে, ডায়ারিয়া থেকে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস থেকে সেপ্টিসেমিয়া পর্যন্ত হতে পারে।’
সংক্রমণ হলে কোন ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে ? কী কী রোগের উপসর্গ দেখা যেতে পারে ?
চিকিৎসক দেবকিশোর গুপ্ত বলেছেন, ‘মাংস এমন একটি খাবার, যাকে সচিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে, তাতে নানারকম জীবাণু তাতে গ্রো করতে পারে। তার মধ্যে বিভিন্ন ব্যকটেরিয়া থাকতে পারে, যেমন সালমোনেলা, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস, প্যাথোজোনিক ই.কোলাই, ক্লোসট্রিডিয়াম..।এগুলির জন্য গ্যাস্ট্রো ইন্টেস্টাইনাল ডিজিজ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া থেকে এক ধরণের টক্সিন নির্গন হয়। যা কিন্তু মাংসের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তার ফলে সেই খাবার যতই রান্না করুন, সেই টক্সিনের থেকে মারাত্মক রকমের ইনফেকশন হতে পারে। ধরুণ অনেকগুলি খাবারের মধ্যে একটি খাবার, সংক্রামিত হয়ে আছে। সেখান থেকে অন্য খাবারে সেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেটি হয়তো প্রথমে কোনও সংক্রমণের উৎস ছিল না। সেটা পাশাপাশি রাখার জন্য হতে পারে। অনেক সময় হাতের মাধ্যমে হতে পারে। ছুরি-চপিং বোর্ড ইত্যাদির মাধ্যমে হতে পারে। রেফ্রিজারেটরের মাধ্যমেও হতে পারে। কাজেই মনে সন্দেহ হলে সেই মাংস রান্না করা মাংস খাবেন না।’
‘খাবারে যদি ভেজাল থাকে বা পচা জিনিস থাকে…”
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর সুমন্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘খাবারে যদি ভেজাল থাকে, বা পচা জিনিস থাকে, তাহলে এটা সবভাবেই বডিকে এফেক্ট করে। এটা একটা জ্বর হওয়ার থেকে নিয়ে লিভার ফেলিওরও হতে পারে। অন্যান্য নার্ভের প্রবলেম, ব্রেণ প্রবলেমও হতে পারে। তো যেকোনও জিনিস পচা বা ভেজাল হলে, ডেফিনেটলি একটা বড় হেলথ হ্যাজারর্ড। এটা কোনওমতেই হওয়া উচিত নয়। আর আমাদেরও সতর্ক থাকা উচিত।’
“জ্বর, বমি, মলের সঙ্গে রক্ত..”
চিকিৎসক ব্রিপেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘খাবার যখন রান্না হচ্ছে, তখন প্রথমত, যারা খাবারটা রান্না করছেন, তাঁদের হাইজিনটা (মেনটেন করা) ইম্পোর্টেন্ট। এবং যে খাবারটা রান্না হচ্ছে, সেই খাবারটা উপযুক্ত তাপমাত্রায় রান্না হচ্ছে কিনা, প্রপার ক্লিনিং হয়েছিল কিনা, সেগুলি দেখা উচিত বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সেই খাবারটা যদি ফ্রেশ ব্যবহার না করে, বাসি বা স্টোর অবস্থায় রাখা হচ্ছে কিনা, সেগুলিও নজরে রাখার কথা বলেন তিনি। তা না হলে ফুড পয়জনিং টাইপের রোগ, অ্যাকিউট গ্যাস্ট্রো গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ফর্ম করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। বিভিন্ন প্রকাশইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। মূলত তার বহিঃপ্রকাশটা, আমাদের শরীরে এইভাবেই হবে যে, হঠাৎ করে বমি শুরু হয়ে গেল, পেট ব্যাথা, লুজ স্টুল, এমনকি স্টুলের সঙ্গে রক্তও বেরিয়ে আসতে পারে। এই সমস্যাগুলিও হতে পারে।’