কলকাতা: সত্যজিত রায় ফিল্ম টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে উত্তেজনা। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির অনুষ্ঠানে আয়োজকদের সঙ্গে সংঘর্ষ পড়ুয়াদের একাংশের সঙ্গে। দু পক্ষের মধ্যে বচসা পৌঁছয় হাতাহাতিতে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরবর্তীতে ভিতর থাকা ছাত্রছাত্রীরা ইনস্টিটিউটের গেট বন্ধ করে দেয় ও ভিতরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। গেটের বাইরে একদিকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির কর্মী সমর্থকরা।
আরও পড়ুন: খরচ বছরে ৫০০ টাকারও কম, মানুষের সুরক্ষায় টার্ম ইনসিওরেন্স ও দুর্ঘটনা বিমার কভারেজ দিচ্ছে কেন্দ্র
এমতাবস্থায় বাইরে থাকা ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির কর্মীরা ও গেটের ভিতরে থাকা রেসিডেন্সিয়াল স্টুডেন্টরা একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন। যদিও ঘটনার শুরুর থেকে দু ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যত অসহায় দর্শক হয়ে SRFTI-এর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পুলিশদের। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে SRFTI-তে।
এর ফলে গেটের ভিতরে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির যে সব কর্মী আটকে রয়েছেন, তাঁদের উদ্ধারও করতে পারছে না পুলিশ। যদিও সেই সব কর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করছেন SRFTI-এর রেসিডেন্সিয়াল ছাত্রছাত্রীরা। তাঁরা বলছেন, তাঁদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে। পাল্টা অভিযোগ করছেন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির কর্মীরাও।
অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির কর্মীরা যে বাসে চেপে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, সেই বাসও আটকে রাখা হয়েছে SRFTI-এর ভিতরে। তাঁদের অভিযোগ, যে সব ব্যক্তিরা ছাত্রছাত্রীদের উপর আক্রমণ করেছেন, তাঁরা মহিলাদের সাহায্য নিয়ে SRFTI-এর ভিতর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ছাত্রছাত্রীদের আরও দাবি, পুলিশকে ভিতরে গিয়ে সেই সব গোলমালকারীদের চিহ্নিত করতে হবে ও সেই সব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে। তবেই ছাড়া হবে সেই সব ব্যক্তিদের।
অন্যদিকে, বাইরে থাকা অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির কর্মীরা বোতল ছুঁড়ছেন বলেও অভিযোগ। এক রেসিডেন্সিয়াল ছাত্রী বলছেন, “আমরা এখানেই থাকি, রেসিডেন্সিয়াল ছাত্রছাত্রী। আমরা গ্রুপে হঠাৎ মেসেজ দেখলাম ওরা আমাদের ছাত্রছাত্রীদের আক্রমণ করছে। আমরা এই ধরনের কোনও রাজনৈতিক বিষয় আমাদের ইনস্টিটিউশনে চাই না। ওর শুধু ছাত্রদের আক্রমণ করেছি, ছাত্রীদেরও আক্রমণ করেছে।”
আর এক ছাত্রের মারাত্মক অভিযোগ। তিনি বলছেন, “আমাদের জায়গা ব্যবহার করে এখানে অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমরা কিছু বলতে গেলে আমাদের বলা হচ্ছে বাংলাদেশি, আমাদের বলা হচ্ছে দেশদ্রোহী, আমাদের বলা হচ্ছে পাকিস্তানি। এগুলো আমাদের বলা হচ্ছে। নকশাল বলা হচ্ছে আমাদের।”