কলকাতা: পালাবদলের পর টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় প্রথম নির্বাচন। শনিবারের পর রবিবারও চলছে গিল্ডের ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণপর্ব সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসেন মিঠুন চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়রা।
আরও পড়ুন, ৪৬ বছর পর নতুন অধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ থেকেই পথ চলা শুরু বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের
স্টুডিওপাড়ার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? নতুন সভাপতি বেছে নিতে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ।গতকাল রুদ্রনীল ঘোষ নির্বাচনে নিরপেক্ষতার কথা বলন। ভোটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখা যায় পর্যবেক্ষকের ভূমিকায়। কিন্তু, এই আবহে, ভোটের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন টালিগঞ্জের বিধায়ক ও অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। পালাবদলের পর টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় প্রথম নির্বাচন। স্টুডিওপাড়ার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? নতুন সভাপতি বেছে নিতে শনিবার থেকে শুরু হল ভোটগ্রহণ। টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় নির্বাচন চলছে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে গোটা বিষয়টা দেখছেন মিঠুন চক্রবর্তী।
অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, আমরা সংবিধানে বিশ্বাস করি। সেই হিসেবেই করা হচ্ছে। এখানে যদি তৃণমূলের কোনও অংশের কোনও বদমায়েশি দেখি, তাহলে আমার থেকে খারাপ লোক দেখেনি।দেখেননি তো আমার চেহারা এখনও। আমি কিন্তু মনে রাখবেন, উত্তর কলকাতার একনম্বর দু’নম্বরি মাল। মনে থাকে যেন আমার গায়ে কোনও বদনাম না লাগে। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, দখলদারির যে প্রাসাদ তৈরি করেছিল আগের সরকার সর্বক্ষেত্রে, এটা ট্রেড ইউনিয়ন বডি রিলেশন। ট্রেড ইউনিয়ন কমিশন বা লেবার কমিশনের যা নিয়ম রীতি রয়েছে, সেই অনুযায়ী ভোট হচ্ছে। কোনও MP, MLA যে কোনও রাজনৈতিক দলেরই কোনও রাজনৈতিক নেতা তাঁরা কেউ ভেতরে যাবেন না। স্বরূপ বিশ্বাস ঢুকে পড়েছিলেন সহকারী পরিচালক (অ্য়াসিন্ট্য়ান্ট ডিরেক্টর) হয়ে।
রুদ্রনীল ঘোষ নির্বাচনে নিরপেক্ষতার কথা বলছেন। মিঠুন চক্রবর্তী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় বসে রয়েছেন। এই আবহে, ভোটের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন টালিগঞ্জের বিধায়ক ও অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। টালিগঞ্জ বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী বলেন, নির্বাচনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা, তাঁদের স্বচ্ছতা প্রমাণ করুন আগে। শুধু নিজেদের লোক নিয়ে কাজ করলে হবে না। যে মানুষগুলো এতদিন কাজ করেনি, তারা কাজ পাবে? বহু বর্ষীয়ান অভিনেতা, তাঁরা কাঁদেন, আমি নাম বলতে চাই না, তাঁদের খারাপ লাগবে। যে সব নাম দেখলাম (অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের) পুরো দাপট রয়েছে। আমি নিষেধ করেছিলাম, এই মানুষগুলো খুব গোলমাল করেছে, এদের নামে ভুরিভুরি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তারা অদ্ভুতভাব রয়েছে। মিঠুন দা-কেও সেটা বোঝানো হয়েছে, অবাক কাণ্ড। আমি আগে গিয়ে বোঝাতে পারিনি।’
বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, পাপিয়াদির যে আশঙ্কা রয়েছে, সেই আশঙ্কার একটা দিক রয়েছে কিন্তু বাস্তবতার আরেকটা দিক রয়েছে। অরূপ বিশ্বাস এবং তৃণমূল শুধু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নয়, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একটা অরাজকতার পরিবেশের সিলেবাস তৈরি করে দিয়েছিলেন। কে, কী ছিলেন, স্বরূপ বিশ্বাস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, পুরো সিনেমা জগৎ, সবাইকেই তো গ্রাস করেছিলেন। আমাদের কারও ইচ্ছেয় কোনও প্রার্থী নির্বাচিত হবে না। টেকনিশিয়ানদের ইচ্ছেয়, টেকনিশিয়ানরা প্রার্থী ঠিক করবেন। তাই এখানে ভুল, ঠিক বোঝানোর বিষয়টা কী, আমার কাছে স্পষ্ট নয়। মিঠুনদা প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রয়েছেন।
এনিয়ে কটাক্ষ করেছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল জমানায় বারবার টালিগঞ্জে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থেকেছে। পরিচালক, প্রযোজক, কলাকুশলী-টেকনিশিয়ানদের সংঘাত কার্যত দৈনন্দিন বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। এদিন তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মিঠুন চক্রবর্তী।
মিঠুন চক্রবর্তী, অভিনেতা ও বিজেপি নেতা: শ্যুটিং বন্ধ আমাদের অভিধানের বিরুদ্ধে।
এবিপি আনন্দ: গন্ডগোল হলে ছাড়বেন না।
মিঠুন চক্রবর্তী, অভিনেতা ও বিজেপি নেতা : ছাড়ব না। একদম ছাড়ব না। আমি নিজের রূপে ফিরে আসব তখন। আবার বলছি ডেমোক্রেসি। আমি কারও কাজ বন্ধ করতে পারি না। আমি কাউকে বলতে পারি না তুমি করবে, তুমি করবে না।