অনির্বাণ বিশ্বাস ও সুদীপ্ত আচার্য, কলকাতা: বুধবার পর্যন্ত কলকাতা পুরসভায় চলবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে অভিযোগের শুনানি। বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই ডিলিমিটেশন, এক সুরে অভিযোগ ‘কালীঘাট তৃণমূল’ থেকে ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’র। চোরে চোরে মাসতুতো ভাই বলে খোঁচা দিয়েছে বিজেপি।

আরও পড়ুন, নিউ ফরাক্কা লাইনে নতুন করে ফেলা হচ্ছে স্টোন চিপস্, কখন থেকে চালু হবে প্যাসেঞ্জার ট্রেন ?

(‘কালীঘাট-তৃণমূল’) প্রাক্তন কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, জনসংখ্যা অনুযায়ী কি এটা ভাগ হয়েছে? এক একটা ওয়ার্ডের দেখা যাচ্ছে অনেক বেশি করে দেওয়া হয়েছে, এক একটা ওয়ার্ডে অনেক কম ভোটার রয়েছে।'(‘ঋতব্রত-তৃণমূল’) বিধায়ক জাভেদ খান বলেন, কোনও কোনও ওয়ার্ডে ৩৫ হাজার ভোটার থাকে আর আমাদের ওয়ার্ডে ১৪ হাজার-১৫ হাজার থাকবে, এটা বাঞ্ছনীয় নয়। পুনর্বিন্যাসে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হচ্ছে ২০৯। যোগ হচ্ছে নতুন ওয়ার্ড, বদলাচ্ছে সীমানা। আর সেই ডিলিমিটেশন ঘিরেই পুরসভায় শুরু হল অভিযোগ-আপত্তির শুনানি।কিন্তু প্রথম দিনেই দেখা গেল ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে অভিযোগ জানাতে পুরসভায় একদিকে যেমন হাজির হলেন কালীঘাট-তৃণমূলের প্রতিনিধিরা, অন্যদিকে দেখা গেল ঋতব্রত তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও। 

TMC On Delimitation:

রাজনৈতিক অবস্থানে দুই বিন্দুতে থাকলেও ডিলিমিটেশন নিয়ে অভিযোগের জায়গায় কার্যত একই সুর শোনা গেল দুই শিবিরের। তাদের অভিযোগ—যে পদ্ধতিতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। শুধু অভিযোগ নয়, সমাধানের পথও বাতলে দিয়েছেন তাঁরা। কালীঘাট-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, পুরসভা এলাকায় তাড়াহুড়ো করে করতে যাচ্ছেন। এটা সম্ভবত বিজেপির চাপে হচ্ছে, বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য হচ্ছে। ডিলিমিটেশনের একটা কায়দা কানুন এরা করেছেন। আমাদের প্রতিনিধিরা যে যে পয়েন্টে প্রশ্ন করেছেন বা ক্লারিফিকেশন চেয়েছেন, তার সদুত্তর দেওয়ার জায়গায় কিন্তু এখানকার অফিসাররা নেই।’

 কোন এলাকার সঙ্গে কোন এলাকা যুক্ত হচ্ছে? কোথায় বদলাচ্ছে ওয়ার্ডের সীমানা? সীমানা নির্ধারণের পিছনে যুক্তিই বা কী? এই প্রশ্নগুলির উত্তর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। (‘ঋতব্রত-তৃণমূল’) বিধায়ক জাভেদ খান বলেন,’অ্যাসেম্বলি কনস্টিটিউয়েন্সি দেখা যাচ্ছে কর্পোরেশন নিজের ইচ্ছেমতো আমার ভেঙে অন্যের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে, অন্যের ভেঙে আমার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এটা হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে করা হচ্ছে, যাতে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পায়।’বিজেপি বিধায়ক ও শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। তবে এই শুনানি শুধু রাজনৈতিক দলগুলির জন্য নয়। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও অভিযোগ থাকলেও তা জানানো যাবে। পাশাপাশি এবিষয়ে দেওয়া যাবে পরামর্শও। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা পড়া অভিযোগ নিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ আগামী বুধবার পর্যন্ত চলবে শুনানি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *