ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে তৃণমূলের বিল বোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই ঘটনায় এফআইআর রুজু হয়েছে। ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একসঙ্গে শেক্সপিয়র সরণি থানায় ৩টি মামলা রুজু হয়েছে। এরমধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন শেক্সপিয়র সরণি থানার এক আধিকারিক, আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে পার্ক স্ট্রিট থানার এক আধিকারিকের তরফে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হয়েছে তৃতীয় মামলা। এর মধ্যে শেক্সপিয়র সরণি থানার আধিকারিক এবং KMC-র দায়ের করা মামলায় FIR-এ নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ডেরেক ও’ব্রায়েন, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কালীঘাট-তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েটের। পার্ক স্ট্রিট থানার আধিকারিকের দায়ের করা মামলাটি রুজু হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ও সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, হুমকি, বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়া, হিংসাত্মক কার্যকলাপ, পুলিশকর্মীদের মারধর, চুরি-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারা। পুলিশের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে যাওয়া মহিলা পুলিশকর্মীর শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করা হয়।
প্রেক্ষাপট…
অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিসের ওপরে এই বিল বোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে গতকাল ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল ক্য়ামাক স্ট্রিটে। পুলিশের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বচসা, কলকাতা পুরসভার আধিকারিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য় বিনিময়, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ব্য়ক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের ব্য়াপক ধস্তাধস্তি, হাতাহাতি, অফিসের ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ার চেষ্টা, পুলিশকে মারধর-তারইমধ্য়ে ভাঙা হল বিল বোর্ড…। সব মিলিয়ে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি।
এ প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছেন, “অবৈধভাবে পুলিশের দাদাগিরি, গুন্ডাগিরি। বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছে। বিজেপির বাবারা মাইনে দেয় না। কোন পার্টি কোথায় বিল বোর্ড লাগাবে, এই রাস্তাজুড়ে বিজেপির হোর্ডিং। এই পুলিশ আর KMC খুলবে একটাও ?”
বৃহস্পতিবার বিকেলে, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের এই ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনে পৌঁছন কলকাতা পুরসভার অফিসাররা। সঙ্গে ছিল শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশও। অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিসের ওপরের বিল বোর্ড বেআইনি। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় দাবি করেন, যথাযথ নথি ছাড়াই বিল বোর্ড ভাঙতে এসেছে কলকাতা পুরসভা। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো উত্তপ্ত বাক্য় বিনিময় হয় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের। শেষ অবধি কলকাতা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভার অফিসাররা ওপরে উঠে তৃণমূলের বিলবোর্ড ভেঙে দেয়।