মালদা: মৃত্যুকে একেবারে কাছ থেকে দেখেছেন। এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না যে বেঁচে আছেন। এযেন নতুন জন্ম। কিন্তু এখনও কাটিয়ে উঠতে পারছেন না সেই ভয়ঙ্কর সময়ের ঘোর, যখন তাঁরা ভেবেছিলেন মৃত্যু নিশ্চিত। শ্রাবণ মাসে বাবাধাম দর্শন সেরে তারাপীঠে পুজো দিতে এসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে পড়ে মালদার তিওয়ারি পরিবার।  পুখুরিয়া থানার নসিপুরের বাসিন্দা তাঁরা। সেই অভিশপ্ত রাতে তারাপীঠে এসে  বিদেশিনী হোটেলেই ছিলেন তাঁরা। একই ঘরে পরিবারের ৭ জন ছিলেন। মৃত্যুকে দেখেছেন একেবারে কাছ থেকে। তবে কোনওক্রমে প্রাণ বেঁচেছে তাঁদের। এখন এই সব কিছুর জন্যই ঈশ্বরকেই ধন্যবাদ জানালেন তাঁরা। বললেন, ওপরওয়ালার অসীম কৃপাতেই  বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। 

সেদিন রাতেই হোটেলে চেক ইন করেছিলেন। সারা দিনের যাতায়াতে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। সোমবার ভোরে আচমকাই চিৎকারে ঘুম ভাঙে পরিবারের সদস্যদের। চোখ খুলতেই তাঁরা দেখতে পান, হোটেলের চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  হোটেল চত্বর তখন ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। তাই প্রাণ বাঁচাতে ছুটে যান বারান্দায় । টের পাচ্ছিলেন ছড়াচ্ছে আগুন। সিঁড়ি দিয়ে নামতে গেলে মৃত্যু অনিবার্য। তাই বারান্দায় থেকে যদি নিচে নামতে পারেন …তাই সেখান থেকেই চিৎকার করতে থাকেন তাঁরা। টের পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে হোটেলের পরিস্থিতি ভয়াবহ। 

প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বারান্দা থেকে তিওয়ারি পরিবারের সাত সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। বড় কোনও শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই তাঁদের বের করে নিয়ে আসা সক্ষম হয়।  তবুও ঘটনার ভয়াবহতা এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। বলছেন, ‘ভগবানের অসীম কৃপাতেই প্রাণ নিয়ে ফিরেছি’। সোমবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ নসিপুরের বাড়িতে ফিরে আসেন পরিবারের সদস্যরা। তবে বাড়ি ফিরেও আতঙ্ক কাটছে না। পরিবারের সদস্য টুম্পা পাণ্ডে তিওয়ারি বলেন, “ভগবানের অসীম কৃপাতেই আজ আমরা প্রাণ নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছি।”

ভয়াবহ আগুন প্রাণ কেড়েছে অনেকের। অনেকে এখনও হাসপাতালে ভর্তি। বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন যাঁরা, আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের। তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ডের জেরে বিদেশিনী হোটেলের বিরুদ্ধে উঠেছে গুচ্ছ গুচ্ছ গাফিলতির অভিযোগ। আগুন তদন্তে নেমে  কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে  জেলা প্রশাসন। এক ধাক্কায় তারাপীঠের ১৫টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে।  

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *