গড়বেতা: এবার বাম আমলের ‘অপরাধের ফাইল’ খোলার হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গড়বেতা, ছোট আঙারিয়া থেকে বন্দুক নিয়ে কারা নন্দীগ্রাম গিয়েছিল, তা বের করে আনবেন বলে ঘোষণা করলেন। জানালেন, কেউ ছাড়া পাবে না। পাশাপাশি, তৃণমূল এবং সিপিএম-কে এক আসনে বসিয়ে আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু। সব হিসেব নেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করলেন তিনি। (Suvendu Adhikari)
শনিবার গড়বেতায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচিতে যোগ দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “বাম আমলে হওয়া অপরাধের ফাইল খুলব। গড়বেতায় যে সিপিএম অফিস ছিল, সেখান থেকে যারা যারা বন্দুক নিয়ে নন্দীগ্রামে রক্তাক্ত সূর্যোদয় ঘটাতে গিয়েছিল, তাদের কেস আমি রিওপেন করব। একটাকেও ছাড়া হবে না। আমি এর আগে ওদের জবাব দিয়েছি। তপন সুকুর একসময় বসেছিল, ‘শুভেন্দু অধিকারী ঢুকলে পা ভাঙব’। আমি তিন দিনের মধ্যে চন্দ্রকোনা রোডে এসে সুশান্ত ঘোষের বুকের উপর দাঁড়িয়ে সভা করে গিয়েছিলাম।” (Suvendu Attacks TMC-CPM)
তৃণমূল এবং সিপিএম-কে এক আসনে বসিয়ে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বলেন, “এখন তো যাহা তৃণমূল, তাহাই সিপিএম। দু’পক্ষ মিলেমিশে একাকার হয়ে আবার সেই নৈরাজ্যের দিন ফিরিয়ে আনতে চায়।”
এদিন ‘হিসেব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন শুভেন্দু। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ডাক্তার প্রণত টুডুর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। মনে আছে! ভোটের দিন ২০২৪-এ। আমি বলে গেলাম প্রণত টুডুকে। ওই এফআইআর-এর কপিটা আমাকে পাঠাবেন। আমি ক’টা অ্যারেস্ট হয়েছে আর হয়নি দেখব। যেক’টা অ্যারেস্ট হয়নি, প্রত্যেককে চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাতে হবে। আমরা ভুলিনি যা করেছে এরা। কেশপুরেও একই জিনিস করেছে। আমাদের সব হিসেব নেওয়ার সময় এসেছে। নির্বাচনের আগে আমি ফিরছিলাম পুরুলিয়া থেকে। চন্দ্রকোনা রোডে আক্রান্ত হই আমি। সারারাত থানায় বসেছিলাম। অনেকে আহত হয়েছিলেন। কাউকে ভুলে যাইনি আমি।”
আসন্ন কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভা নির্বাচনেও বিজেপি-র জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফুটে ওঠে শুভেন্দুর গলায়। তিনি বলেন, “আগামী দিনে কলকাতা-হাওড়া পুরসভা নির্বাচনেও দেখবেন মমতা-তৃণমূল আর তাদের বন্ধু, লাল পার্টি, যারা ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদেরকেও মানুষ ধুয়েমুছে সাফ করে দেবে। একটি বিশেষ গোষ্ঠীর লোকেরা যেখানে অত্যাচার করেছে, সেই লোকেরা এখন জামাবদল করে লাল জামা পরার চেষ্টা করছেন। কারণ আজ দিল্লিতে বেবি আর আন্টি দু’জনের ভাব হয়ে গিয়েছে। আন্টি মানে কে জানেন তো! একটাই আন্টি পিসি। আর সিপিএম-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক এমএ বেবি…এই দু’জনের এখন ভাব-ভালবাসা হয়ে গিয়েছে।”